মির্জাগঞ্জে বেড়ররধন খালের উপর ব্যবহারের অনুপযোগী সংযোগ সেতু

উত্তম গোলদার উত্তম গোলদার

মির্জাগঞ্জ(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০ | আপডেট: ৯:১৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বেড়রধন খালের উপর দুইটি ব্রীজের করুন দশায় পরিনত হয়েছে। ভাঙ্গা ও জোড়া তালি ব্রীজ। দূর্ভোগের শেষ নেই পথচারীদের। বেড়েরধন খালের উপর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ডোকলাখালী – পাশ্ববর্তী বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ সংযোগ ব্রীজ ও একই খালের উপর মির্জাগঞ্জের ডোমরাবাধ- বেতাগীর জলিশা সংযোগ ব্রীজ। ব্রীজ দুটি দুই উপজেলার সংযোগস্থল।

এরমধ্যে মির্জাগঞ্জের ডোমরাবাদ- বেতাগী উপজেলার জলিশা এর সংযোগ ব্রীজটি গত ২১ জানুয়ারী রাতে একটি ট্রলারের ধাক্কায় ভেঙ্গে যায় এবং ডোকলাখালীর স্থানে ব্রীজটির করুন দশা। পাঁয়ে হেঁটে চলা এখন দায়। অতি গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রীজ দুটি। ব্রীজ দুটোর উভয় পারে রয়েছে হাটবাজার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল। ব্রীজ দুটি উভয় পারের লোকজনের জন্য পরম উপকারী। ব্রীজ দুটো দিয়ে মির্জাগঞ্জ থেকে অতি সহজে মোকামিয়া বা বেতাগী হইয়া খুলনা সহ বিভিন্ন যায়গায় যাওয়া যায়। ঠিক বেতাগী ও জলিশার লোকজন ব্রীজ দুটো দিয়ে মির্জাগঞ্জ হয়ে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা সহ বিভিন্ন যায়গায় যেতে পারে। সরবরাহ করতে পারে উভয় পারের উৎপাদিত ফসল।

ভাগাভাগি করতে পারে তাদের সুখ-দুঃখ। কিন্তু ব্রীজ দুটি এখন দেখে মন হয় কোন পূলসিরত। সুযোগ সুবিধা তো দূরে কথা পারপার হওয়াই দূস্কর। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে উভয় পারের বসবাসকারীদের। ডোমরাবাধ- জলিশা সংযোগ ব্রীজটি দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। গত ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারী ব্রীজটির নিচ দিয়ে একটি ধান বোঝাই টলার যাওয়ার সময় ধাক্কা লাগে। এতে ব্রীজটি সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙ্গে যায়। ভাঙ্গনের প্রায় এক বছর হলেও ব্যবস্থা হয়নি নতুন ব্রীজ বা যোগাযোগের বিকল্প কোন ব্যবস্থা। বিচ্ছিন্ন রয়েছে উভয় পারের লোকজনের যোগাযোগ। ডোমরাবাধ এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবদুল মান্নান সিকদার বলেন, বছর ধরে ব্রীজটি ভাইঙ্গা রইছে। নতুন ব্রীজ তো দেয়ই না। বিকল্প কোন ব্যবস্থার ও খবর নাই। পার হওয়ার কোন উপায় নাই। বাধ্য হইয়া ছোট নৌকায় করে ঠেহা ঠেক ঝুঁকি লইয়া পার হওয়া লাগে।

ব্রীজ ভাঙ্গোনে মোগো দূর্ভোগের কোন শেষ নাই। অপর দিকে ডোকলাখালী – হোসনাবাদ সংযোগ ব্রীজটি দীর্ঘ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ব্রীজটির পাটাগুলো ভেঙ্গে পরেছে। বিভিন্ন যায়গায় এঙ্গেল ভাঙ্গা। প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ভাঙা যায়গায় কাঠের তক্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোন সময় ব্রীজটি ভেঙে প্রাণহানীসহ বড়ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছে এলাকাবাসী। এ ব্রীজটি নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিয়েছে নতুন ব্রীজ নির্মানের আশ্বাস। কিন্তু কোন কিছুতে কোন প্রতিকার হয়নি। নতুন ব্রীজ তো দূরের কথা এযাবৎ সংস্কার ও হয়নি। আশা সেতো মরিচিকা। এমনই ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা। ডোকলাখালী এলাকী বাসিন্দা মোঃ সুমন হাওলাদার (২৫) বলেন, আমাদের দূর্দশা দেখার মতো কেউ নাই। ব্রীজটি দেখে মনে হয় এই জন্মের পূলসিরত। জন্মের পর থেকে একইভাবে দেখে আসছি। শুধু শুনি টেন্ডার হবে। মাটি টেস্ট করছে। কিন্তু মেরামত বা নতুন ব্রীজ কবে হবে জানি না।

এব্যাপারে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শেখ আজিম উর রশিদ বলেন, ডোমরাবাধ- জলিশা সংযোগ ব্রীজটি নির্মানের জন্য মাটি টেস্ট হয়েছে। নকশা করে পিডি অফিসে পাঠানো হয়েছে। আর ডোকলাখালী – হোসনাবাদ সংযোগ ব্রীজটি নির্মানের ও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। গুরুত্বপূর্ন ব্রীজের তালিকা তৈরী করে উধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।