‘মুজিববর্ষে প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ তে প্যানেলের ঘোষণার চাই’

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৬:৩৪:অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০২০
ছবি: টিবিটি

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষার মান উন্নয়নে শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কোন বিকল্প নেই। তাইতো স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে দেড় লাখ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ করেছিলেন।

আমাদের জন্য আনন্দের সংবাদ এই যে বঙ্গবন্ধুর মতো তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও শিক্ষাবান্ধব সরকার। যার আন্তরিকতায় বছরে প্রাথমিকের ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে। নতুন বই, ফ্রি বেতন, প্রশস্ত দালানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মিড ডে মিল, প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক শ্রেণীকক্ষ এসব কিছুই বর্তমান সরকারের গৃহিত পদক্ষেপে সম্ভব হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় ও আনা হয়েছে আমূল-পরিবর্তন। কম্পিউটার, চারুকলা, শরীর চর্চার মতো ঐচ্ছিক বিষয়কে আবশ্যক বিষয় করা হয়েছে।

প্রথাগত মুখস্থ বা অন্ধগত বিদ্যাকে নিরুৎসাহিত করে সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ পদ্বতির প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতি বছর বাজেট ঘোষণা করা হয় শিক্ষাখ্যাত কে অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়ে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ছিল ৭৯ হাজার ৪৮৬ কেটি টাকা। যা ছিল মোট বাজেটের ১৫.২%। সরকারের শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রবল আন্তরিকতার কারণে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে ৬৫ হাজার ৯৯টি এবং শিক্ষার্থী হচ্ছে ২ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ জন।

শিক্ষা জীবনের যে একটি মৌলিক অপরিহার্য অংশ এই বিষয়ে এখন ব্যক্তি, পরিবার সমাজ সবাই সচেতন। বর্তমানে শিক্ষার উন্নয়নের একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে শিক্ষক-সংকট। সর্বশেষ ২০১৪-১৮ পর্যন্ত প্রাথমিকে নিয়োগ সার্কুলার হয় মাত্র ১টি যার চূড়ান্ত নিয়োগ হয় ২০২০ সালের মার্চে। অর্থাৎ ৬ বছরে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয় মাত্র একটি। রিট জটিলতা, নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা, নিয়োগ বাণিজ্য, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, নিয়োগে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা ইত্যাদি কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ যথা সময়ে সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন অ্যানুয়েল সেক্টর পারফর্মেন্স রিপোর্ট-২০১৯ তথ্যমতে, মাত্র ১ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে ৭৪৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ জন করে ১ হাজার ১২৪টি, ৩জন শিক্ষক দ্বারা চলে ৪ হাজার ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষকের অভাবে কোন কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন মসজিদের ইমাম।

বিভিন্ন মিডিয়া পত্র-পত্রিকার তথ্যমতে, বর্তমানে প্রাথমিকে প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি সহকারি শিক্ষক শূন্যপদ রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত জরিপ মতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ সহকারি শিক্ষক অবসরে যান তার অর্থ বর্তমানে প্রাথমিকে চরম শিক্ষক সংকট বিদ্যামান খুব শীগ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে প্রাথমিক শিক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়বে এই বিষয়ে সন্দেহ নাই। এ ছাড়াও কভিড-১৯ এর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে শিক্ষা সংকট। এসব সমস্যার একমাত্র স্থায়ী বাস্তব সমাধান হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতো প্রয়োজনীয় শিক্ষকের উপস্থিতি। আর তা নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগে প্যানেলের কোন বিকল্প নাই। সরকারি ব্যাংকগুলোতে এখন ১ম-৪র্থ ধাপ পর্যন্ত প্যানেল গঠন করে নিয়োগ দেয়া হয় যা পূর্বে ছিল না।

বর্তমানে প্রায় সবগুলো প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় প্যানেল পদ্ধতি বিদ্যামান। ২০১৮ সালের প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগে পরিক্ষার্থী ছিল ২৪ লাখ এবং লিখিত পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। পাশের হার মাত্র মোট ২.৩%। স্বাধীনতার পর কোন চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় এটাই ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যাক প্রতিযোগীর অংশগ্রহনে নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ৬ বছরে একটি সার্কুলার তাও রেকর্ড সংখ্যাক পরীক্ষার্থী কিন্তু প্যানেলের মতো আধুনিক ও বাস্তবসম্মত পদ্বতি সেখানে অনুপস্থিত।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো সংকট নিরসনে অনেকগুলো জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩০ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতি ঘর থেকে ১ জন করে সরকারি চাকরি দিবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে ৬১টি জেলা হতে অপেক্ষামান ৩৭ হাজার ১৪৮ জন মেধাবীকে সার্কেল প্যানেলের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে অপেক্ষারত মেধাবী ও তাদের পরিবারের দৃঢ় বিশ্বাস। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুর্বন জয়ন্তীতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০১৮ তে প্যানেলের ঘোষণা আসবে এটাই বর্তমান সময়ের আলোচিত, সমালোচিত, নায্য, যৌক্তিক ও মানবিক দাবি। সবাইকে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা।

লেখক : সৈয়দ মাসুদ পারভেজ
উপদেষ্টা, প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ প্যানেল প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় কমিটি।