মুন্সিগঞ্জে হাতুড়ির আঘাতে শিক্ষককে হত্যার অভিযোগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২৮:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৮

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক মাওলানা ও মাদ্রাসা শিক্ষক ক্বারী মো. আওলাদ হোসেনকে (৫৫) হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিবেশী তাইজুল শেখের (৪৫) বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের আজিমপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৯ আগস্ট) ভোরে অভিযুক্ত তাইজুলকে আটক করে হাতিমারা পুলিশ।

আওলাদ হোসেন চুরাইন আনোয়ারুল উলম রহমানিয়া মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগের শিক্ষক এবং স্থানীয় আতকা বাজারে হারবাল ওষুধ ব্যবসায়ী।

নিহত আওলাদ হোসেনের স্ত্রী সাহিদা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে রাতের খাওয়া শেষ করে ব্যবসার হিসাব নিকাশ নিয়ে কাজ করছিলেন আমার স্বামী। রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী তাইজুল মোবাইলে কল করে তাকে বাসা থেকে ডেকে নেন। এরপর দীর্ঘ সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি ফিরে না আসায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় বাসা থেকে বের হয়ে তাকে খোঁজ করতে থাকি।

একপর্যায়ে তাইজুলের বাসায় গিয়ে দেখি বাড়ির পাশের পুকুরের ঘাটলায় তিনি রক্ত মাখা লুঙ্গি পরিষ্কার করছেন। কিছু একটা টেনে ঘাটলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। দূর থেকে তাকে আওলাদ হোসেনের বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানে না বলে জানান।

এরপর বাড়ির আশপাশের আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইলের মাধ্যমে ডেকে আনলে তারা তাইজুলকে আটক করে তার বাসায় গিয়ে দেখা যায় বিছানা ও বালিশে রক্ত। পরে পুকুরের ঘাটলায় কচুরিপানার ভেতরে আমার স্বামীর মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।

তিনি আরোও বলেন, তাইজুল আমার স্বামীর ব্যবসা বাণিজ্যে উন্নতি এবং চারদিকে সুনামের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। বাড়িতে ডেকে নিয়ে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে।

ভোরে পুলিশ তাইজুলকে আটক করে নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তাইজুলকে আটক করা হয়েছে। ঘরের আলমারি থেকে ব্যবহৃত হাতুড়িও উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।