মের্কেল ও ম্যাক্রো‘র সঙ্গে এরদোগানের ফোনালাপ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:১৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো’র সঙ্গে কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিইপ এরদোগান।

আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং বৃহস্পতিবার ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার সাম্প্রতিক মতবিরোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এছাড়া দুই দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে তুর্কি অর্থমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের বিষয়েও একমত তিন নেতা।

ইমানুয়েল ম্যাক্রো, রিসেপ তায়্যিইপ এরদোগান এবং আঙ্গেলা মের্কেল তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্র আনাদোলু এজেন্সি’কে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আলাপকালে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও মের্কেল-ম্যাক্রো’র সঙ্গে কথা বলেন এরদোগান। বিশেষ করে পারস্পরিক বিনিয়োগের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

তুরস্কে বসবাসরত এক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজককে আটকের ঘটনায় সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

এতে করে তুর্কি লিরার দরপতন ঘটে। এর প্রেক্ষিতে দুই দেশের বিদ্যমান উত্তপ্ত সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়ায়। জনগণকে তাদের কাছে গচ্ছিত ডলার ও ইউরো ভাঙিয়ে তুর্কি মুদ্রা লিরা গ্রহণের আহ্বান জানান এরদোগান।

অর্থনৈতিক খাতে অস্থিরতা কাটাতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় ইউরোপের প্রভাবশালী দুই নেতার সঙ্গে কথা বলেন এরদোগান।

তুরস্কের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটে এগিয়ে আসে বন্ধু রাষ্ট্র কাতার। তুর্কি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এক হাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় দেশটি।

১৫ আগস্ট আঙ্কারায় এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি তুরস্কে নতুন এই বিনিয়োগের এই ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরই তুর্কি মুদ্রা লিরার দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়।

আমেরিকা ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি দেখা দেওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের আমিরই প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান যিনি তুরস্ক সফর করলেন।

এদিকে বর্তমান সংকট সামাল দিতে দেশবাসীকে ডলার বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এরদোগান। ডাক দিয়েছেন মার্কিন পণ্য বয়কটের।

বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এরদোগান ও শেখ তামিম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের বৈঠক চলেছে প্রায় তিন ঘণ্টা।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, ‘এ সফরকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ সফর এটাই প্রমাণ করে, কাতার তুরস্কের পাশে আছে।’ তুরস্কে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সালিম বিন মুবারাকা আল শাফির কণ্ঠেও একই সুর।

তিনিও তুরস্কের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সফর তুরস্কের সঙ্গে কাতারের ‘গভীর সম্পর্কেরই প্রমাণ।’ তার ভাষ্য, ‘২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় যেমন কাতার তুরস্কের পাশে ছিল তেমন করে ভবিষ্যতেও তুর্কি ভাইদের পাশে থাবে কাতার।

তুরস্ককে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বের করে আনতে কাতারের নাগরিকরা প্রচুর পরিমাণে তুর্কি লিরা কিনেছে।’

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা।