মেসিদের সুর নরম, স্বস্তি বার্সেলোনায়

টিবিটি টিবিটি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০ | আপডেট: ৫:১৯:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২০

অবশেষে কম নিতে সম্মত হয়েছেন বার্সেলোনার ফুটবলাররা। লিওনেল মেসিরা বেতনের মায়া ছাড়ায় চলতি মৌসুমে ১৭২ মিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হবে বার্সার যার মাধ্যমে নিজেদের দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাতে বাড়বে ক্লাবটি।

করোনা মহামারীর কারণে ইউরোপের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ক্লাবগুলোর একটি বার্সা যে কারণে দেউলিয়া হওয়ার হুমকিতে আছে দলটি। এখন নিজেদের বাঁচাতে হলে যেভাবেই হোক ৩০০ মিলিয়ন সাশ্রয় করা জরুরি তাদের জন্য।

গত মৌসুমেও খেলোয়াড়দের ৬৭১ মিলিয়ন ইউরো বেতন দিয়েছে বার্সা। সাশ্রয়ের জন্য প্রথমে তাই খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের দিকেই নজর পড়েছে তাদের।

লা লিগার নির্দেশ অনুযায়ী যেভাবেই হোক চলতি মৌসুমে বেতনের সংখ্যা ৩৮২.৭ মিলিয়নে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে যে কারণে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে লুইস সুয়ারেজ, ইভান রাকিটিচ, আর্তুরো ভিদালের মত উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারদের।

বাকি যারা ক্লাবে আছেন তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরও সহজ সমাধানে আসতে ব্যর্থ হন সাবেক ক্লাব প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউ। গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেন, ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং, জেরার্ড পিকে ও ক্লেমো ল্যাংলে ছাড়া বাকিদের কিছুতেই রাজি করানো যাচ্ছিলো না ৩০ শতাংশ পারিশ্রমিক কমানোর ব্যাপারে।

আশার কথা হচ্ছে, দ্বিতীয়বারের মত বেতন কম নিতে রাজী হয়েছেন অধিকাংশ ফুটবলার। শুক্রবার বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্সা।

বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের বেতন কমাতেই হতো। অবশেষে শুক্রবার গভীর রাতে বার্সেলোনা বোর্ডের সঙ্গে মেসি-গ্রিজমান-কুতিনিয়োরা বেতন কমানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এতে বছরে খরচ বাঁচবে ১০৯ মিলিয়ন পাউন্ড বা ১২২ মিলিয়ন ইউরো।

বার্সেলোনার প্রথম দলের তারকাদের সঙ্গে অর্থাৎ মেসি-গ্রিজমান-পিকেদের সঙ্গে কয়েক মাস ধরেই আলোচনাটা চলছিল। গত ২৬ অক্টোবর পদত্যাগ করা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউই এটা শুরু করেন। অন্তবর্তীকালীন সভাপতি কার্লেস তুসকেতসেরও প্রধান উদ্বেগ এটা নিয়েই। এ নিয়ে তারকাদের সঙ্গে কয়েকবার আলোচনা পিছিয়ে যায়। অবশেষ প্রথমেই এগিয়ে আসেন কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তার ১০ মিলিয়ন পাউন্ড বার্ষিক বেতন কমাতে সম্মত হন। অবশেষে খেলোয়াড়েরাও রাজি হয়েছেন।

তবে বেতন কমানো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাবদ ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড (৫০ মিলিয়ন ইউরো বা ৬০ মিলিয়ন ডলার) তিন বছর সময়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের দিতে হবে। বার্সেলোনা আদতে সাশ্রয় করতে চেয়েছিল ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু সব মিলিয়ে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তা করা গেল ১৫৪ মিলিয়ন পাউন্ড, ঘাটতি ১৬ মিলিয়ন।

সাম্প্রতিক এক হিসেবে দেখা গেছে করোনায় বার্সেলোনার ক্ষতি হয়েছে ৮৮ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ক্লাবের দেনা বেড়ে হয়েছে ৪৪০ মিলিয়ন পাউন্ড।

গত মার্চ মাসে খেলোয়াড়েরা ৭০ শতাংশ বেতন ছাড় দিতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু সেটি চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। কয়েকজন খেলোয়াড় যেমন জেরার্ড পিকে ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং নতুন চুক্তি অনুযায়ী ৩০ শতাংশ বেতন বকেয়া রাখার ব্যাপারে একমত হলেও মেসিরম মতো উচ্চ বেতনধারীরা শুক্রবারের আগে সম্মতি জানাননি।

মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন ও ক্লেমেন্ত লংলেও অবশ্য পিকে-ডি ইয়ংয়ের মতো নতুন চুক্তি করেছেন যাতে সাময়িকভাবে কর্তিত বেতন নিতে তারা বাধ্য। যদিও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে কর্তিত বেতনও তাদের দিতে হবে।

অধিনায়ক মেসি বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ বেতনধারী খেলোয়াড়। সপ্তাহে বেতন পেতেন ৫ লাখ পাউন্ড (বার্ষিক ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড)। আন্তোয়ান গ্রিজমানের সাপ্তাহিক বেতন ছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার পাউন্ড (বার্ষিক ১৫.৩ মিলিয়ন পাউন্ড) এবং ফিলিপ্পে কুতিনিয়োর ১ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড (বার্ষিক ৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ড)।

এর আগে কয়েকবার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েও ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর ব্যাপারে রাজি করাতে পারেনি। অবশেষে সেটি হলো। কোম্যান বিষয়টির ইতি টানতে চাইছিলেন দ্রুতই, না হলে মাঠের খেলায় প্রভাব পড়ছিল। সেজন্য তিনি নিজেই প্রথম সম্মতি জানান তার বেতন কমানোর ব্যাপারে।

প্রথম চারটি ম্যাচ জিতেই বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠাটা নিশ্চিত করেছে সবার আগে। তবে লা লিগায় ভয়াবহ পরিস্থিতি। আট ম্যাচের মাত্র তিনটিতে জিতে পয়েন্ট তালিকার ১৩তে রয়েছে বার্সেলোনা, যা তাদের জন্য লজ্জা।

বেতন কমানোর ব্যাপারে খেলোয়াড়েরা সম্মত হওয়ায় সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে বার্সেলোনা। কোম্যানের আশা, সব ঝামেলা মিটে যাওয়ায় মেসিরা এখন মাঠের খেলায় মনোযোগী হবেন শতভাগ।