মেস ভাড়ার জন্য ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রীদের আটক, ৯৯৯ নম্বর কলে পুলিশের উদ্ধার

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫০:অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

কুমিল্লায় মেছ ভাড়ার জন্য ছাত্রীদের আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চার ঘণ্টার বেশী সময় তালাবন্ধ থাকার পর ছাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) কুমিল­া নগরীর ধর্মপুর এলাকায় এ ঘটনা হয়।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের মাষ্টার্সের ছাত্রী মেরিন তানজিনা টুম্পা অভিযোগ করেন, ধর্মপুরের জাহানারা মঞ্জিলে আমরা ছয়জন ছাত্রী থাকি। ভিক্টোরিয়া কলেজে অনার্স ও মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত। প্রায় তিন মাস মেচে ছিলাম না। আমাদের টিউশনি বন্ধ। মঙ্গলবার ছয়জন মেচে গিয়েছি। বাসায় প্রবেশের পর মূল গেটে আন্টি তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা বলেছি, যেহেতু মেচে ছিলাম না, টিউশন নেই এখন। ৫০% ভাড়া দেবো। অন্টি বলেছেন পুরো টাকা দিতে হবে। আমরা বলেছি তাহলে এখন টাকা সাথে নেই, মালামাল থাকুক।

আমরা মে মাস পর্যন্ত টাকা দিয়ে, আসবাবাত্র নেবো। তিনি বললেন, যেহেতু জুনের দুই তারিখ, জুনের ভাড়াও দিতে হবে। তিনি গেটে তালা লাগিয়ে আমাদের চার ঘণ্টার মতো আটকিয়ে রাখেন। আমরা বাধ্য হয়ে ৯৯৯ নম্বরে কল করি। পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে।

কুমিল্লা ধর্মপুর জাহানারা মঞ্জিলের মালিক জানাহারা বেগম জানান, তাদের কাছে আমি তিন চার মাসের ভাড়া পাই। পূর্বে এমন করে বহু ভাড়াটিয়া টাকা না দিয়ে চলে গেছে। ভাড়ার টাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ করি। তারা আমার মেয়ের মতো। আন্তরিকতার মধ্যে তাদের বলছি, ভাড়া না দিলে তালা খুলবো না। মেয়েরা আমার বাড়িতে পুলিশ কল দিয়ে এনেছে। ভাড়ার টাকায় বাসার বিভিন্ন বিল দেই। সরকার যদি গ্যাস, কারেন্ট, পানি বিল মওকুফ করে, আমিও তাদের মওকুফ করতে পারতাম।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা সাব ইন্সপেক্টর আনোয়ার হোসেন জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে টিমসহ ঘটনা স্থলে যাই। বাসায় তালা দেওয়া ছিলো। মালিককে ডেকে তালা খুলি। এ বিষয়ে মালিক ও ছাত্রী উভয়ের সাথে কথা হয়। মালিক পক্ষ চায় শতভাগ ভাড়া, ছাত্রীরা চায় করোনাকালীন সময়ে ৫০% টাকা দেওয়ার জন্য। প্রাথমিক ভাবে বিষয়টির সমাধান করে, তাদের বাসা থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করি। যেকোন সমস্যায় উভয় পক্ষকে থানার সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূইয়া জানান, বিশ্ব এখন মহাসংকটে আছে। এ সময়ে সবাই সবাইকে ছাড় দিতে হবে। এখানে যারা পড়ে, বেশীর ভাগ গরিব ঘরের সন্তান। তাদের অংশিক ভাড়া মওকুফ করা দরকার। রাজশাহীতে ৪০% ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। আমরাও বাসা মালিকদের সাথে সমন্বয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কলেজের সংগঠন ক্যাম্পাস বার্তা থেকে মেচ ভাড়া মওকুফের আবেদন আসে। এ বিষয়টি আমি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। এছাড়াও যদি ভাড়া নিয়ে আমার ছেলে-মেয়েদের সাথে কোথাও সমস্যা হয়। আমাদের জানালে প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এটা সমযোতার বিষয়। জোর করে তো ভাড়া আদায় করা যায় না।

উলে­খ্য যে, গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থান করছেন। ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী শহর ও শহরতলীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির এ সকল ছাত্র-ছাত্রীরা টিউশন ও অস্থায়ী চাকরি করে পড়াশোনার খরচ বহন করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বাড়িতে থাকাকালীন তাদের অনেক মেচ মালিক মোবাইলে চাপ প্রয়োগ করেছেন। বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য বলেছেন।