মেয়রের হয়ে কারাগারে আত্মীয়, ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ আদালতের

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১:৩২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮

দুদকের চার মামলায় গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আনিছুর রহমানের স্থলে তার এক আত্মীয়ের প্রক্সি দেয়ার ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খান রাজধানীর কোতোয়ালি ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানাকে এই নির্দেশ দেন।

এর আগে শনিবার মেয়র আনিছুর সরকারি সফরে নয় দিনের জন্য ইন্দোনেশিয়া যান। গতকাল রোববার মেয়রের রূপ ধারণ করে তার আত্মীয় নূরে আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে তার সত্যতা নিশ্চিত করেন সোমবার।

এ সম্পর্কে দুদকের প্রসিকিউটর রুহুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা একটি পত্রিকার প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানতে পারি, আসামি আনিছুর রহমানের স্থলে তার এক আত্মীয় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন। তাই আমরা আজ আদালতে দরখাস্ত দেই। আজ ওই চার মামলার একটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় আসামিকেও আদালতে আনা হয়। বিচারক তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রক্সির কথা স্বীকার করেন।’

মেয়র আনিছুর রহমানের প্রক্সি দেয়া নূরে আলাম আদালতে জবানবন্দিতে বলেন, মেয়র আনিছুরের নির্দেশে তিনি এ কাজ করেন। তিনি আসলে মেয়র নন। আনিছুর রহমানই মেয়র।

নিজের নাম নূর আলম বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মেয়র আনিসুর রহমানই এই মামলার আসামি। তার স্থলে আমি এই মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করি। আদালত জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। আমি আনিছুরের রূপ ধারণ করে আত্মসমর্পণ করে ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই।’

মেয়র আনিছুর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়া গেছেন জানিয়ে নূর আলম জবানবন্দিতে বলেন, ‘তার (মেয়র) নির্দেশেই আমি তার রূপ ধারণ করে আত্মসমর্পণ করি। আইনজীবী রেজাউল করিম আবু আমাকে হাজিরা দিতে বলেন।’

আইনজীবী রেজাউল করিম আবুর দাবি তিনি মেয়রকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন না। বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি নিজেকে মেয়র পরিচয় দেয়। আমরা তাকে আত্মসমর্পণ করাই। এর বেশি কিছু আমরা জানি না।’

রোববার নুরে আলম (মেয়র আনিছুর রূপে) এবং শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক আব্দুল মান্নান আত্মসমর্পণ করেন। আনিছুর চার মামলায় ও আব্দুল মান্নান দুই মামলায় আত্মসমর্পণ করেন।

ওই আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান শুনানি শেষে আনিছুর রহমানের এক মামলায় ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন। তবে অপর তিন মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর আব্দুল মান্নানকে দুই মামলাতেই জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত।