মেয়েকে বিক্রির টাকায় সারারাত জুয়া খেললেন বাবা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 11:13 PM, November 22, 2019 | আপডেট: 11:13:PM, November 22, 2019

ফারুক মিয়া চিকিৎসার কথা বলে নিজের ১৪ দিন বয়সী শিশু কন্যাকে কোলে করে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তার না দেখিয়ে তাকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি। আর সেই টাকা উড়িয়ে দেন জুয়া খেলে।

মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ঘটনা অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শিশুটির মায়ের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসে জুয়ারি বাবার অবাক করা কাণ্ড। উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। গ্রেফতার করা হয় বাবা ফারুকসহ শিশুটির ক্রেতা জাকিয়া নামে এক নারীকে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। গত সোমবার (১৮ নভেম্বর) এমন ঘটনা হলেও মিডিয়ার নজরে আসে তিন দিন পর।

গত বুধবার (২০ নভেম্বর) কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার বালিরারপাড় এলাকার মৃত শাহাব উদ্দিনের ছেলে ফারুক ভুইয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের রামদী গ্রামের মো. ফরিদ ভূঞার মেয়ে মোছা. রিনা খাতুনের বিয়ে হয় ১৫ বছর আগে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। গত ৫ নভেম্বর তাদের জন্ম নেয়া শিশু সন্তানের নাম রাখা হয় রাধিয়া।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) ডাক্তার দেখানোর কথা বলে রাধিয়াকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফারুক ভুইয়া। কিন্তু ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বেতাল গ্রামের সুমন ভূঞার স্ত্রী জাকিয়া আক্তারের কাছে ৭০ হাজার টাকায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেন ফারুক। তার স্ত্রীকে জানানো হয়, এক নারীর কোলে রাধিয়াকে রেখে টয়লেটে গিয়েছিলেন ফারুক। এসে দেখেন ওই মহিলা নেই।

খবর পেয়ে মা রিনা ছুটে যান কটিয়াদী হাসপাতালে। কিন্তু শিশুটিকে কোথাও পাওয়া যায়নি। ফারুক ভুইয়ার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলের দিকে ফারুক অন্য একটি মোবাইল ফোনে শিশুটির মা রিনাকে জানায়, শিশু রাধিয়াকে পেতে হলে তাকে ৬ লাখ টাকা দিতে হবে।

এরই মধ্যে রিনার কাছে খবর আসে ফারুক ও তার কয়েকজন আত্মীয় মিলে রাধিয়াকে বিক্রি করে দিয়েছেন।

ঘটনার পরদিন গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কটিয়াদী মডেল থানায় ঘটনায় জড়িতদের শিশুটির বাবা, দাদি রেহেনা খাতুন ও তাদের আত্মীয় জসিম ভূঞাসহ অজ্ঞাত কয়েক জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

পর দিন পুলিশ ফারুক ও জাকিয়াকে গ্রেফতারসহ শিশুটিকে উদ্ধার করে। একই দিন আদালতের নির্দেশে শিশু রাধিয়াকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে দুই আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের ওসি এম এ জলিল জানান, নিজের শিশু সন্তানকে বিক্রি করে ফারুক ভূঞা ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিল। এক রাতেই জুয়া খেলে তিনি পুরো টাকাই শেষ করে দেন। জুয়ার নেশায় পড়েই সে এমন নির্মমতার পথ বেছে নিয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

ওসি আরও জানান, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কটিয়াদী থানা পুলিশের এসআই মো. মোস্তফা কামাল। শনিবার (২৩ নভেম্বর) রিমান্ড আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।