মেয়ের সৎ বাবার চক্রান্তের শিকার হয়ে গণপিটুনিতে মারা যায় সিরাজ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৩:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০১৯

বিভিন্নস্থানে অনেক খোঁজও করে অবশেষে মেয়েকে পেয়েছিলেন। মেয়ের খোঁজ পাওয়াতেই মেয়ের প্রতি ভালবাসা বেড়ে যায় বাক প্রতিবন্ধী বাবা সিরাজের।

বাড়ির পাশের একটি মোবাইল দোকানির কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার করে চুড়ি, লিপিস্টিক ক্রয় করে মেয়ের কাছে নিয়ে যান রাজমিস্ত্রীর জোগালীর কাজ করা দরিদ্র সিরাজ।

কিন্তু সেই যাওয়ায় তার শেষ যাওয়া। তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামীর ভুল তথ্যে তাকে গণপিটুনি খেয়ে নিহত হতে হলো। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি সিরাজের ভাই ও এলাকাবাসীর।

রবিবার বেলা ১১ টায় সহজ-সরল এ প্রতিবন্ধীর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এলাকায় মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল পৌনে ৯টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া আল-আমিন নগর এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হন সিরাজ।

প্রায় ১০ বছর পূর্বে শামসুন্নাহারের সাথে বিয়ে হয় বাক প্রতিবন্ধী সিরাজের। ৬ বছরের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে তাদের। ৪ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সবার বড় সিরাজ। বাক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কখনো কারো সাথে বিাবদে জড়াতো না সিরাজ। বাড়ির অন্যান্যদের বোঝা না হয়ে নিজেই রাজমিস্ত্রীর সহযোগী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন।

প্রায় বছর খানেক পূর্ব থেকে এলাকার বিদ্যুৎ মিস্ত্রী আঃ মান্নান ওরফে সোহেলের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে তার স্ত্রী শামসুন্নাহার। এক পর্যায়ে উভয়ে পালিয়ে যায়। সাথে নিয়ে যায় কন্যা মিনজুকেও।

এরপর সম্ভাব্য সকাল স্থানে স্ত্রী কন্যার সন্ধান করেন সিরাজ ও তার স্বাজনরা। কিন্তু কোন হদিস পাননি। ৫-৬ মাস পূর্বে স্ত্রী শামসুন্নাহার ডিভোর্স লেটার পাঠান সিরাজের কাছে। সেই থেকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন সিরাজ। স্ত্রীকে না পেলেও নিজে নিজে কন্যাকে সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কিছুদিন পূর্বে কন্যার সন্ধান পান সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিন নগর এলাকায়।

শনিবার কন্যা মিনজুকে দেখতে যান সিরাজ। নিজের কাছে টাকা না থাকায় বাসাার পাশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী মোখলেসুর রহমানের কাছ থেকে ১০০ টাকা ঋণ নিয়ে মেয়ের জন্য চুড়ি ও লিপিস্টিক ক্রয় করে মেয়েকে দেখতে যায় সিরাজ।

মেয়ের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তার স্ত্রীর বর্তমান স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে সোহেল তাকে দেখে ফেলে গলাকাটা বললে এলকাবাসী গণধোলাই দেয় হতভাগা সিরাজকে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

রবিবার তার লাশ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেইট এলাকায় নিয়ে আসলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এলাকাবাসী। তাদের অনেককেই আক্ষেপ করে বলতে শোনা গেছে-এমন করে মানুষকে পিটুনি দেয়ে মারতে পারলো লোকজন। লাশকে ঘিরে থাকা এলাকাবাসী ও তার মেঝো ভাই আলম সিরাজের হত্যাকান্ডকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে। এসময় তারা সিরাজ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মিছিলও করে।

সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকার ঠিকাদার মোহর চানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মৃত সিরাজ। তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লাল মোহন থানার মুগিয়া বাজার এলাকায়। তার পিতার নাম আঃ রশিদ মন্ডল। মায়ের নাম কমলা খাতুন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ সেলিম মিয়া।