মেয়ে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায়…

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ৫:৫৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৮

মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুবাই প্রবাসী এক পরিবারকে তিনমাস ধরে এক ঘরে সমাজচ্যুত করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে মা লূৎফুন্নেছা গতকাল ওই গ্রামের মোঃ নূর হোসেন, মো. রফিক মিয়া, মো. ফারুক মিয়া, মো. সুরাব মিয়া এবং মো. নোয়েল মেম্বারকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দেন।

থানার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত জুন মাসে গ্রামের মো. নূর হোসেন তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে লূৎফুন্নেছারের মেয়ের (ফারজানা আক্তার) বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হলে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি করার জন্য ভয়-ভীতিও দেখানো হয়। সেজন্য তাকে ও তার মেয়েকে তিনমাস যাবত এক ঘরে রেখে সমাজচ্যুত রাখা হয়েছে।

দুবাই প্রবাসী হারুন মিয়ার স্ত্রী লূৎফুন্নেছা বলেন, গত তিন মাস ধরে আমি এক ঘরে সমাজচ্যুত হয়ে আছি। গ্রামের কেউ আমার বাড়ীতে আসে না।

কথা বলে না। সে কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্য করতে চেয়েছিল। আমিও কারো বাড়িতে যেতে পারি না। এবারের ঈদে কারো সঙ্গে শরিক হয়ে কোরবানিও দিতে পারিনি। এখন আমাকে সমাজে তোলার জন্য নূর হোসেন আমার নিকট ২০ হাজার টাকা দাবি করছে।

অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএস আই মো. আল আমিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রামের মানুষজন বলছেন তাদের পরিবারের সাথে কেউ কথা বলেন না। এটা তো খুব খারাপ জিনিস।

এখনতো সমাজচ্যুত করার বিধান নেই। গ্রামের ১০/১২জন নাকি একটি কাগজে স্বাক্ষর করে সমাজচ্যুত করেছে। প্রভাবিত করার বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করছি। থানায় গিয়ে ওসি স্যারের নির্দেশে সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন-‘এই মাত্র এ বিষয়টি আমি জানলাম। সমাজচ্যুত করার বিষয়টি আইনত: গর্হিত অপরাধ। যার এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততার সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ওসিকে নির্দেশনা দিব।