মেয়ে হলে বাবার এতদিন আয়ু বাড়ে!

প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০ | আপডেট: ৬:০৯:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

অনেক পরিবারে আজও কেউ গর্ভবতী হলে ছেলে সন্তানের আশা করা হয়। পরপর কয়েটি মেয়ে হলে সেই মাকে শুনতে হয় নানা কথা। তবে দিন বদলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, সঙ্গে পরিবারের মানুষের মানসিকতা।

সন্তান বাবা-মায়ের কাছে স্বর্গের দূত। সে ছেলে-মেয়ে যাই হোক। শিশুর জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই দেখা যায় মেয়েরা বাবার জন্য আর ছেলে সন্তান মায়ের দিকেই বেশি টান থাকে। ছোট শিশুটির সব কিছুই ভালো লাগে বাবা মায়ের কাছে।

বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটাতে তাদের ভালো লাগে সবচেয়ে বেশি, শিশুর জন্য সব কাজও বাবা-মা করেন আনন্দ নিয়ে। জানেন কি? মেয়ে সন্তান হলে তার প্রভাব পড়ে বাবার আয়ুতে।

সম্প্রতি পোল্যান্ডের জাগিলোনিয়ান ইউনির্ভাসিটির সম্প্রতিক এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পুত্র সন্তান তাদের পিতার আয়ুর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে কন্যা সন্তানের সংখ্যার সঙ্গে পিতার লম্বা আয়ুর সমানুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে। মানে কন্যা সন্তান হলে নাকি আয়ু বাড়ে মেয়ের। ভারতের মতন এরকম অনেক দেশই মনে করে যে কন্যা সন্তান হওয়া উচিত নয়। যেখানে দেশ এত এগিয়ে গেছে মানুষ চাদে পাড়ি দিচ্ছে সেই জায়গায় দাড়িয়ে মানুষ লিঙ্গ ভেদাভেদ করতেই ব্যাস্ত।

আবার অনেকের মতে মেয়ে থাকা মানে অমঙ্গল। কিন্তু এখনকার দিনে দাঁড়িয়ে এমনও দেখা গেছে মেয়েরা ছেলেদের থেকে বেশি এগিয়ে গেছে অনেক ক্ষেত্রে। ভারতের বহু গ্রাম্য এলাকায় এখনও এমন মানুষ আছে যারা নাকি মেয়ে-ছেলে নিয়ে ভেদাভেদ করে থাকেন। মেয়ে হলে তাদের মুখ অন্ধকারে ঢেকে গেছে এমনো দেখা গেছে। আবার মেয়ে হয়েছে ছলে হয়নি বলে তাদের একঘর করে দেওয়া হয়েছে।

মেয়েদের বিয়ে দিতেও আপত্তি দেখা গেছে ওনেকের সব মিলিয়ে অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এই সব ছকে বাধা গল্পের মধ্যে নতুন তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে ইউরোপের একাধিক গবেষণায় কন্যা সন্তানের বাবার আয়ু তুলনামূলক বেশি হয়। তারা অন্য পুরুষদের চেয়ে বেশিদিন বাঁচেন। অবশ্য লিঙ্গ নির্বিশেষে সন্তান জন্মদান মহিলাদের আয়ু কমিয়ে দেয় এ ব্যাপারে প্রায় সব গবেষক একমত।রিপোর্টে এমন বলা হয়েছে, পুরুষের কন্যা সন্তানের সংখ্যা যত বেশি, আয়ুও ততই বেশি।

সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, প্রতিটি কন্যা সন্তানের জন্য বাবা ৭৪ সপ্তাহেরও বেশি অতিরিক্ত আয়ু পান। এখানেই শেষ নয় ২ হাজার ১৪৭ জন মা এবং ২ হাজার ১৬৩ জন বাবার ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। একটি সন্তান জন্মের পর বাবার মানসিক ও শরীরিক অবস্থা কেমন থাকে সেটি পর্যবেক্ষণ করাই ছিল এ গবেষণার মূল লক্ষ্য। তাহলে এখান থেকেই দেখা গেছে পুরো সত্যিটা।