মোংলায় অসংখ্য লোককে হয়রানি করছে এক জমির দালাল

প্রকাশিত: ৭:৩৬ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩৬:অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০
মোংলা বন্দর। ফাইল ছবি

মোঃ এনামুল হক, মোংলা প্রতিনিধি: একের পর এক জমি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করে নিজে ফায়দা লোটার অভিযোগ উঠেছে সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিম খানার সুপার আকরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

প্রশাসনিক দপ্তর ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনে এতিমদের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধেও। রাজনৈতিক খোলস বদল করা এই সুপার অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন জমির মালিককে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

হয়রানির শিকার ব্যক্তিরা জানালেন তার অপকর্মের নানা কথা। এদের মধ্য থেকে সর্বশেষ বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন মোংলার বিশিষ্ট হোটেল ব্যবসায়ী ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ হিরো মিয়া। মোংলার সিগনাল টাওয়ার এলাকায় বসবাসকারী মোঃ হিরো মিয়া জানান, ১৯৭০ সালে ৯৭ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখলে আছেন এবং ওই জমির উপরে ৪টি ঘর, ২টি পুকুরসহ ফলজ ও বনজ গাছপালা রয়েছে তার। হঠাৎ করে সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিম খানার সুপার মোঃ আকরামুজ্জামান মাসখানেক ধরে তার ভোগদখলকৃত সম্পত্তির মধ্যে ভিপি সম্পত্তির অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা করেন, যার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। তাকে কোন কিছু না বলে এবং জমি না মেপে অবৈধভাবে ক্রয়কৃত জমিতে লাল নিশানা ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে তাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছেন।

মাদ্রসার স্বার্থের কথা বলে জমি বেচা কেনার এই দালাল মোঃ আকরামুজ্জামান ইতোমধ্যে স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষিকা নাছিমা বেগম, আয়া পারুল বেগম, দিন মজুর জব্বার ফরাজি, বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী শাহাজাহান মাঝি, ওয়াচম্যান শাজাহান, গৃহিনী রহিমা বেগম, কম্পিউটার ব্যবসায়ী জি, রব্বানীসহ বহু লোকদের জমিজমা নিয়ে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগীরা তার হাত থেকে রক্ষা পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে একধিক মামলা দায়ের করেছেন।

মোঃ হিরো মিয়া বলেন, এর আগে একই এলাকায় মাদ্রাসার সম্পত্তি দাবি করে দখলে নিয়ে পরবর্তীতে নিজেই ওই সম্পত্তির মালিক দাবিদার হয়ে এখন বিক্রির চেষ্টা করছেন সুপার আকরামুজ্জামান। ভুক্তভোগী গৃহিনী রহিমা বেগম বলেন, মোঃ আকরামুজ্জামান বহুমুখি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সময় বলৎকারের অভিযোগে চাকুরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে একটি শিশু সদন ও এতিম খানায় কর্মরত অবস্থায় একই অভিযোগে সিগনাল টাওয়ার জামে মসজিদের ইমামতি থেকে তাকে বরখাস্ত করেন তৎকালীন কমিটিও। চালনা বন্দর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমিসহ ৫ জন শিক্ষক ২০১৩ সালে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে মাটি ভরাট করি। ঘর নির্মাণ করতে গেলে সুপার মোঃ আকরামুজ্জামান তার কিছু দালাল বাহিনী নিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করেন।

সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিম খানার সুপার মোঃ আকরামুজ্জামান আমাদের একের পর এক মিথ্যা হয়রানির কারে যাচ্ছেন। দিন মজুর আঃ জব্বার ফরাজি বলেন, আমি গরীব মানুষ। অনেক কষ্ট করে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে বালু দিয়ে ভরাট করে বসত ঘর করতে গেলে সুপার মোঃ আকরামুজ্জামান তার কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাঁধা সৃষ্টি করেন।

আমি প্রায় ৪ বছর এই জমি দখল নিতে পারিনি। পরে আকরামুজ্জামানকে বিবাদী করে আদালতে মামলা দায়ের করি (মামলা নং-৫২/১৯)। মোংলার দিগরাজ শিল্প এলাকার বিশিষ্ট কম্পিউটার ব্যবসায়ী জি, রব্বানী বলেন, বুড়িরডাঙ্গা এলাকায় আমাকে একটি জমির প্লট দেখায়। পছন্দ হলে জমির দাম কাঠা প্রতি দেড় লাখ টাকা ঠিক হয়। পরবর্তীতে জমির দালাল আকরামুজ্জামান ওই জমির দাম কাঠা প্রতি ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। আকরামুজ্জামান এমন কাজ আরও লোকের সাথে করেছেন।

সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিম খানার সুপার মোঃ আকরামুজ্জামান তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার নিজের কোন জমি ওইখানে নেই । বিরোধপূর্ণ জমির বিষয় খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক উভয় পক্ষের কাজগপত্র দেখে মিট মিমাংসা করে নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, সিগনাল টাওয়ার জরিনা কুলসুম এতিম খানার নামে কিছু অংশ ভিপি জমি লিজ আছে। উপজেলার সার্ভেয়ার ভিপি জমি এবং মোঃ হিরো মিয়ার ক্রয়কৃত ৯৭ শতাংশ জমি লম্বালম্বিভাবে মেপে দিয়েছে। উভয় পক্ষ যাতে মিলেমিশে ভোগ দখল করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।