ম্যাজিস্ট্রেটকে ধাওয়াকারী সেই সন্ত্রাসী কামাল সহযোগীসহ গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১ | আপডেট: ৮:৪৯:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে অভিযানে বাঁধা প্রদানকারী ফটিকছড়ির দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বালু খেকো কামাল উদ্দিন (৩৯) ও তার এক সহযোগী জমির উদ্দিনকে ফটিকছড়ি পুলিশের সহযোগীতায় আটক করেছেন রাউজান থানা পুলিশ। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল হারুনের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক অজয় কুমার পালের নেতৃত্বে রাত ব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে ২৫ ফেব্রুয়ারী ভোর পাঁচটার দিকে তাদের স্ব স্ব বাড়ি হতে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী মাে. কামাল উদ্দিন প্রকাশ হাছান ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের আধারমানিক গ্রামের কুম্ভার বাড়ির মৃত খায়রুল ইসলাম খানের পুত্র। তার সহযোগী জমির উদ্দিন (৩১) রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের আবুল হোসেন চৌধুরী বাড়ির মো. খায়রুল বশর চৌধুরী মেম্বারের পুত্র।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত দুই জনকে আজ (২৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০ টি মামলা রয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্মপুরের এক ব্যবসায়ী জানান, সন্ত্রাসী কামাল উদ্দিন সর্তা খাল হতে অবৈধ বালু উত্তোন ছাড়াও ফটিকছড়ির ধর্মপুরের এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছ হতে চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা রাউজান-ফটিকছড়ি সীমান্তবর্তী সর্তার খালে গড়ে উঠা অবৈধ বালুর মহালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কালে ফটিকছড়ি দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বালু খেকো কামাল উদ্দিনের নেতৃত্ব ত্রিশ-চল্লিশ জনের একটি দল ভ্রাম্যমান আদালতকে ধাওয়া করেন। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবির সোহাগ র্যাব -পুলিশ সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করেন চারটি বালুর মহাল ধ্বংস করেন। এরপূর্বে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী কর্মকর্তা রাশেদ বিন আহমেদ বাদী হয়ে কামাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২(২৫-০২-২০২১)।