ম্যানগ্রোভ স্কুলের অধ্যক্ষ তারেক খানের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানি ও বেতন আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০ | আপডেট: ১১:৫৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০
অধ্যক্ষ তারেক খান

রাজধানীর লালমাটিয়ায় ডি ব্লকে অবস্থিত ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ‘ম্যানগ্রোভ স্কুল’ এর অধ্যক্ষ তারেক খানের বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের কু-প্রস্তাব, শ্লীলতাহানি ও পাওনা বেতন আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে প্রতিষ্ঠানটির এক নারী শিক্ষিকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষিকা বলেন, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করার কিছুদিন পর থেকেই বাইরে ঘুরতে যাওয়া, মধ্যরাতে ফোনে কথা বলা ও ভিডিও চ্যাটিংসহ বিভিন্ন সময় নানা কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন অধ্যক্ষ তারেক খান। কিন্তু তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক পর্যায় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

অভিযোগকারী শিক্ষিকা আরও বলেন, মহামারি করোনাকালীন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকার পরও তিনি মোবাইল ফোনে কু-প্রস্তাব দিতে থাকেন আমাকে। তার প্রস্তাব নাকচ করে দিলে কয়েক দিন পর গত ২৯ জুন আমাকে ভিডিও চ্যাটিংয়ে ডাকেন। অধ্যক্ষ তারেক খান চ্যাটিংয়ে বলেন প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থে আগামী জুলাই থেকে আমাকে রাখা সম্ভব নয় কর্তৃপক্ষের। তবে বকেয়া বেতন ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট জুলাই’র ৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করবেন অধ্যক্ষ তারেক খান।

‘৫ জুলাই পাওনা বেতন ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করায় ৬ জুলাই আমি নক করি অধ্যক্ষ তারেক খানকে। তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরদিন আবারও নক করলে কোনো সাড়া দেননি অধ্যক্ষ তারেক খান’ যোগ করেন ওই শিক্ষিকা।

শিক্ষিকা আরও বলেন, ৮ জুলাই আমি পাওনা টাকা ও এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট আনতে ম্যানগ্রোভ স্কুলে গেলে সেখানে আমাকে ফের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন ওই অধ্যক্ষ। তিনি আমার সঙ্গে সেখানে বাকবিতণ্ডা করেন ও এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির পর চলে আসি আমি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ম্যানগ্রোভ স্কুল’র পরিচালনার দায়িত্বে ৬ জন পরিচালক থাকলেও মূলত এর তত্ত্বাবধায়ন করে থাকেন অধ্যক্ষ তারেক খান। প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই বিভিন্ন সময় নারী কর্মীকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ রয়েছে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কিন্তু তাদের কেউই আইনি পদক্ষেপ নেননি।

জানা যায়, এর আগেও অধ্যক্ষ তারেক খান প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি করেছিলেন এবং পরে তাদের পাওনা বেতন আটকে দেন।