‘ময়মনসিংহ মেডিকেলে পড়ালেখা করে আমার বন্ধু মন্ত্রী, আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ৮:৩৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৯

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বলেছেন, ভাল ডাক্তার হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে তাদের মন জয় করতে হবে। মানবিক হতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের মানুষের জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। ডাক্তারদের শুধু চিকিৎসা সেবা নয় সামাজিক-রাজনৈতিক অনেক ক্ষেত্রেই অবদান রাখার সুযোগ আছে। রোববার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং এসব কথা বলেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান ও স্বাস্থ্য সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন।

এরআগে সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং তার শিক্ষা জীবনের স্মৃতি বিজড়িত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন আসেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়ের স্মৃতিচারণ করে ডা. লোটে শেরিং বলেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত আমি ও আমার সহপাঠী, অর্থাৎ আমার মন্ত্রিপরিষদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ময়মনসিংহ শহরের বাঘমারা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ২০ নম্বর কক্ষে থেকেছি। এখনো আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করছি।

দীর্ঘসময়ে আমাদের মাঝে কোনোদিন মনোমালিন্য হয়নি। আমার সেই সহপাঠী বন্ধুর কারণেই আজ আমি প্রধানমন্ত্রী। তিনিই আমাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন।

লোটে শেরিং আরও বলেন, আমাদেরকে সকল ভোদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশটাকে নিজের ভাবতে হবে। বিশেষ করে ডাক্তারদের মানবিক হতে হবে।

সকালে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং তার শিক্ষা জীবনের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসে শিক্ষা জীবনের স্মৃতিবিজড়িত কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের আগমনে সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছিলেন বেশ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের আগমনে সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।

লোটে শেরিং বিদেশি কোটায় ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। প্রায় সাত বছর লেখাপড়া শেষ করে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন।