‘যখন কাবার দিকে তাকালাম হৃদয়ে শান্তি অনুভব করলাম’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯
সংগৃহীত

৩১ বছর বয়সী মরিয়ম গুল চলতি সপ্তাহে যখন জীবনে প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবার দিকে তাকালেন, তখন তার কাছে মনে হলো হৃদয়টা শান্তিতে ভরপুর হয়ে উঠেছে।

কালো গিলাফে ঢাকা ইসলামের পবিত্রতম জায়গায় পা দিয়ে তার কাছে মনে হয়েছে তিনি যেন ক্রাইস্টচার্চ থেকে বহু দূরের এক পৃথিবীতে এসেছে। নিউজিল্যান্ডের ওই শহরে এখন তারা বাবা-মা আর ভাই চিরনিদ্রায় আছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ক্রাইস্টচার্চের এক মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫১ জন মুসল্লী প্রাণ হারিয়েছিলেন।

“আমার মনে হলো একটা প্রতীকের দিকে তাকিয়ে আছি, যেটা শান্তির প্রতীক। যেটা স্বয়ং আল্লাহর নিজের প্রতীক। মনে হলো তিনি এখানেই আছেন।” কাবার শরীফের দিকে নিজের প্রথম দৃষ্টিপাতের মুহূর্তের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করছিলেন গুল।

গুল একা নন। ক্রাইস্টচার্চ হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া এবং নিহতদের স্বজনদের মধ্য থেকে ২০০ জনকে এবার বিশেষ ব্যবস্থায় হজ পালনের সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার। সাদা চামড়ার এক সন্ত্রাসীর অপকর্মের ভুক্তভোগী এই মানুষদের হজের সব খরচ বহন করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

হাজিদের অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের সবাই বলেছেন, হজ তাদের কষ্ট ভুলিয়ে দিতে এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করতে সহায়তা করছে।

মরিয়ম গুল বলেন, “আমার এখন অনেক ভাল লাগছে। নিজেকে অনেক গোছানো মনে হচ্ছে, বিক্ষিপ্ত-বিশৃংখল মনে হচ্ছে না। এখন আর আগের মতো খারাপ লাগার অনুভূতি নেই আমার মনে। এখন অনেক শান্তি বোধ করছি এবং শান্তির প্রচারে আরও মনোযোগী হয়েছি।”

তাজ মুহাম্মদ সন্ত্রাসীর গুলিতে আহত হয়েছিলেন। আল নুর মসজিদের ঘটনায় তার পায়ে তিনটি গুলি লেগেছিল। এ কারণে নিজের পায়ে তাওয়াফ করতে পারবেন না। হুইল চেয়ারে করে প্রদক্ষিণ করবেন কাবা শরীফকে। হজের অভিজ্ঞতা তার কষ্টকে কমিয়ে দিয়েছে, মনে কতৃজ্ঞতাবোধের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘হজে আসা খুব সহজ ছিলো না’।
সূত্র: সিএনএন