যবিপ্রবির শেখ হাসিনা হলে সাইবার ক্যাফে উদ্বোধন

নাজমুল হোসাইন নাজমুল হোসাইন

যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১২:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল শেখ হাসিনা হলের ছাত্রীদের উন্নত ওয়াাইফাই সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধার দেওয়ার লক্ষে হলে সাইবার ক্যাফে উদ্বোধন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) বেলা ১১ ঘটিকায় উপাচার্য হলের প্রধ্যাক্ষদের সাথে নিয়ে প্রাথমিকভাবে চারটি কম্পিউটার দিয়ে সাইবার ক্যাফের উদ্বোধন করেন এবং খুব দ্রæত আরও দশটি কম্পিউটার সংযোগ করা হবে সাইবার ক্যাফেতে যেখান থেকে ছাত্রীরা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাবে।

এসময় ছাত্রী হলে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপাচার্য কে অবহিত করেন। শিক্ষার্থীরা তাদের খাবার , ডাইনিং রুম, বাথরুম এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানান এবং উপাচার্য সকল সমস্যা দ্রত সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। উপাচার্য তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের প্রাধ্যাক্ষ এবং প্রকৌশল দপ্তরকে নির্দেশ দেন।

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের একযোগে পরীক্ষা শুরু হবার আগের দিন গত ২৬ অক্টোবর হলে আকস্মিক অভিযান চালায় হল প্রশাসন এবং সব রাইস কুকার, হিটার ও রান্নার সরঞ্জাম নিয়ে যায়। এতে পরীক্ষার সময় খাবার খাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ছাত্রীরা।

ছাত্রীরা তাদের রান্নার ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যকে জানালে তাদের রান্নার জন্য খুব দ্রæত দশটি ইন্ডাকশন ওভেন রান্নাঘরে সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেন এবং ছাত্রীরা সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় রান্নাবান্নার কার্যক্রম সেখানে করতে পারবে। এরপর ছাত্রীহলের ডাইনিং রুম সহ রান্নাবান্না এবং খাবারের মান যাচাই করেন উপাচার্য। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা চাইলে তারা নিজেদের ব্যাবস্থাপনায় ক্যান্টিন চালু করতে পারে।

হলে রাইস কুকার, হিটার ও অন্যান্য রান্নার সামগ্রী চালানো সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, গত ২৫ অক্টোবর হলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের জন্য অগ্নিকান্ডের মত দুর্ঘটনা ঘটে, যার জন্য হল প্রশাসন অভিযান চালায়। আমি চাই না আমার কোন সন্তান বিপদে পড়ুক। শিক্ষার্থীরা যে ধরনের রান্নার সামগ্রী ব্যাবহার করে তা থেকে যে কোন সময় অগ্নিকান্ডের মত বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এ দায় নেবে কে। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে, রান্নার সামগ্রীগুলোতে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়।

বৈদ্যুতিক স্বল্পতার কারনে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সকল কক্ষে এসি ব্যাবহার বন্ধ রেখেছি, অধিকাংশ ভবনের লিফটগুলো বন্ধ রেখেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে আমাদের কোন বিদ্যুৎ স¦ল্পতা থাকবে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন তৈরি করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছি।

হল পরিদর্শনের শেষে উপাচার্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল শেখ হাসিনা হলকে বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল এর থেকে অনেক বেশি উন্নত ঘোষণা করেন এবং বর্তমানে এই হলের শিক্ষার্থীরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তা অন্য যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে অনেক উন্নত মানের বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুবিধার জন্য যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন ।