যশোরে তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ৫:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

যশোর পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ অফিসে আনা হয়েছে। শুক্রবার সকালে যশোর কোতয়ালি থানার ওসি ও আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শিশু কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( বিশেষ) তৌহিদুল ইসলাম জানান, তিন কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের ১০ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশ অফিসে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম করা হবে। তবে এই মুহূর্তে কাউকে আটক দেখানো হয়নি। আর জিজ্ঞাসাবাদ করা না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, যশোর কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান, ভিডিপি কর্মকর্তা শিশু কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। এদিকে নিহত ৩ বন্দির লাশ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে নিহত রাব্বির স্বজনরা হাসপাতালে রয়েছেন। ময়নাতদন্ত হলে তার লাশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের মারপিটের ঘটনায় ৩ বন্দি কিশোর নিহত হয়। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ১৭। আহতদের পুলিশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

ঘটনার পরপরই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রবেশন অফিসার মুশফিক আহমেদ দাবি করেন, সম্প্রতি কেন্দ্রে বন্দি কিশোরদের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রড ও লাঠির আঘাতে মারাত্মক জখম হয় ১৭ কিশোর। প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন কেন্দ্রে তাদের চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চলে। তবে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আশঙ্কাজনক একে একে আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এর মধ্যে নাইম, পারভেজ ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

জেনারেল হাসপাতালের ডা. অমিয় দাশ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তারা মারা যায়। কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না।

নিহতরা হলো, খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা পশ্চিম সেনপাড়ার রোকা মিয়ার ছেলে পারভেজ হাসান রাব্বি (১৮), রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১১৮৫৫৩, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মহিপুর গ্রামের আলহাজ নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে রাসেল ওরফে সুজন (১৮) রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৭৫২৪ এবং একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার তালিপপুর পূর্বপাড়ার নানু প্রামাণিকের ছেলে নাঈম হোসেন (১৭), রেজিস্টেশন নম্বর ১১৯০৭। নাঈম হোসেন ধর্ষণ এবং রাব্বি হত্যা মামলার আসামি ছিল।

বালকদের জন্য দেশে দুটি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র আছে। যার একটি গাজীপুরের টঙ্গিতে, অন্যটি যশোর শহরতলির পুলেরহাটে। এ কেন্দ্র মোট বন্দির সংখ্যা ২৮০ জন। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রায়ই অঘটন ঘটে। লাশ উদ্ধার, মারপিটের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়ম জেঁকে বসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি এই তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে চালানোর জন্য একগুচ্ছ সুপারিশ করেছিল। কিন্তু অবস্থার যে উন্নতি হয়নি; বরং অবনতি হয়েছে।