যশোরে ভুয়া পুলিশের টার্গেট শিক্ষার্থী

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৭:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৯

যশোর শহরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে তারা ছিনতাই করছে একটি চক্র। । এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতংক বিরাজ করছে।

সম্প্রতি পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় একই চক্র জড়িত থাকলেও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী। যদিও ভিডিও ফুটেজে ছিনতাইকারী চক্রের দুইজনকে দেখা গেছে। তবে তাদের পরিচয় সনাক্ত হয়নি। ওই দুইজনকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপূর্ব হাসান বলেন, পুলিশ পরিচয়ে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুইজনকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে।

ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তাদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদেরকে ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দুজনকে আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

জানা যায়, গত ২৭ জানুয়ারি শহরের কাঠেরপুল এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র আনন্দ কুমার সরকারের গতিরোধ করে দুজন। এসময় তার কাছে ইয়াবা আছে কি না তল্লাশি করার নামে দুটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নেওয়া হয়। একই দিন যশোর পলিকেটনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় গতিরোধ করে কলেজ ছাত্র সুমন মন্ডলের দুটি ল্যাপটপ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। শহরের পালবাড়ি মোড়ে হোটেল কর্মচারী সাকিলে শাওমি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় ওই চক্রটি। ৩০ জানুয়ারি বেজপাড়া মেইন রোড এলাকায় সিটি কলেজের ছাত্র মাহফুজ আহমেদের কাছ থেকে হু আই মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ পরিচয়ে। ২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে তিন ছাত্রের কাছ থেকে পুলিশ পরিচয়ে ৩টি মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়। পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের কোমরে পিস্তল, মাথা হেলমেট, হাতে হকস্টিক ছিল। তাদের দেখে সাধারণ মানুষের বোঝার উপায় নেই ভুয়া পুলিশ তারা।

এদিকে, পুলিশ পরিচয়ে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তবে পুলিশ ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করতে না পারায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতংক বিরাজ করছে। শহরে ছাত্রবাসগুলোতে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি আতংক বিরাজ করছে। টিউশনি কিংবা ব্যক্তিগ কাজে বাইরে বের হতে তারা ভয় পাচ্ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আনন্দ কুমার সরকার বলেন, পকেটে ইয়াবা আছে কি না তল্লাশির কথা বলে মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে নেয়। এরপর আমাকে থানায় যেতে বলে। থানার কাছাকাছি গেলে তারা পালিয়ে যায়। ওই লোকের মাথায় হেলমেট, কোমরে ওয়্যারলেস ছিল। তিনি আরও বলেন, ওইদিন থানায় গিয়ে দেখি আমার মত আরও অনেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়েছে পুলিশ পরিচয়ে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। এজন্য ছাত্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশি আতংক বিরাজ করছে।

যশোর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র সুমন মল্লিক বলেন, পুলিশের সহায়তায় সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এখনও সনাক্ত হয়নি ছিনতাইকারী। সুমন মল্লিক বলেন, তাছাড়া আজ দুপুরে পুলিশের অন্য একটি সংস্হা আমার কাছ থেকে ছিনতাই করার ধরন ও অন্যান্য বিষয় গুলি শুনেছেন।