যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কাল

শহিদ জয় শহিদ জয়

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৬:০৪:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৪, ২০২০

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) দিবস ২০২০ আগামীকাল শনিবার। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর যশোর জেলার প্রথম ও একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামীকাল এর ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সভাপতিত্ব করবেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন।

উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী মৌজায় ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। তবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে। যশোর শহরের ধর্মতলাস্থ ‘বৃষ্টি মহল’ নামের একটি ভাড়া বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এ ভাড়া বাড়িতেই ২০০৯ সালে ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ‘কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল’, ‘পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’, ‘অণুজীববিজ্ঞান’এবং ‘ফিশারীজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স’ বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ওই বছরের ১০ জুন ভর্তিকৃত ২০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে মূল ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসের শুভ উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি অনুষদের অধীনে ২৬টি বিভাগ রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ে ৪ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ মোট ২৫৯ জন শিক্ষক, বিভিন্ন গ্রেডের ৯২ জন কর্মকর্তা এবং ৩০৮ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। যারা নিজেদের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণা নির্ভর বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে রাতদিন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব সকাল ১০.৩০ টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। বেলা ১১.০০ টায় হবে আনন্দ র‌্যালি, দুপুর ১১.৩০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনের কেক কাটা, পিঠা উৎসব, উৎকর্ষ ব্যান্ড এবং যবিপ্রবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের শুভ উদ্বোধন, দুপুর ১২ ঘটিকায় আলোচনা সভা ও বেলা ১টায় পুরষ্কার বিতরণী। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে দুপুর আড়াইটা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কনসার্ট। সন্ধ্যার পরে মঞ্চ কাঁপাবে জনপ্রিয় সংগীত ব্যান্ড ওয়্যারফেজ ও আভাস।

এদিকে ১৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সকল বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে পিঠা মেলা। পিঠার পসরা নিয়ে নিজ বিভাগ তুল ধরবে বিভাগগুলো। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কে আঁকা হয়েছে আল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর।