যান্ত্রিক জীবনে শিশু বিকাশের ভিন্ন আয়োজন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১৭:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯

সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রতিবেদক, টিবিটি: যান্ত্রিকতার নগরে উন্মুক্ত আকাশকে ঢেকে দিয়েছে ইট, বালুর তৈরি ছাদ। এখানে দু:সহ কোলাহলের মাঝে গতিময় জীবন সুস্থ স্বাভাবিকতার প্রবাহকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।

বুক ভরে প্রশান্তির শ্বাস নেয়ার পরিবর্তে, অভক্তির দুর্গন্ধময় বিষাক্ত শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে প্রতিটি মানুষকে। নগর জীবনের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ প্রায় শূন্যের কোঠায়। এমনকি বাদ পড়ছে না সদ্যজাত শিশু।

তাকেও এই অস্বাভাবিক পরিবেশের মাঝেই বেড়ে উঠতে হচ্ছে। অন্যদিকে কর্মব্যস্ততার যান্ত্রিকতা আরো অস্বাভাবিক করে তুলছে। যার প্রভাব পরিবারের শিশুদের ওপর পড়ছে সবচেয়ে বেশি।

একটু খোলাসা করলে বললে, বাবা-মা দুজনেই চাকুরিজীবী। অথবা মা চাকুরিজীবী বাবা ব্যবসায়ী। সকাল হতেই দুজনকে ছুটতে হয় কর্মস্থলে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাসার কাজের লোকই হয়ে যায় শিশু লালন-পালনের একমাত্র ভরসা। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।

এমন অস্বাভাবিকতার মাঝে কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। খুঁজছে স্বাভাবিক বিকাশের উপায়। বিশেষ করে বেড়ে ওঠার প্রথম অধ্যায়ে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত সেই শিশুকালে কৃত্তিমতার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সন্ধান।

পরিবারের সকল সদস্যদের নৈমত্তিক ব্যস্ততাও কম দায়ী নয় স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে। তাদের অনুপস্থিতি শিশুদের একাকীত্ব। বিষয়টি দিনে দিনে তীব্রতর হচ্ছে। রাজধানীতে বৃহৎ পরিসরে সরকারি উদ্যোগ যেমন শিশু পার্ক, শিশুমেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু শিশুদের বয়স, তাদের মানসিক বিকাশের ধরণ নির্ধারণ করে তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে সকল সমস্যাকে মাথায় রেখে শিশু বিকাশকে একটি সামগ্রিক অংশ নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কথা হচ্ছিল রাজধানীর লালমাটিয়াস্থ এমন একটি প্রতিষ্ঠান ‘লিটল ডাকলিংস’-এর সুপারভাইজর সানিয়া তুজ জোহরার সাথে।

একটু ভিন্ন ভাবনা নিয়েই এগুচ্ছেন তারা। একই সাথে ডে কেয়ার, প্রি-স্কুল এবং প্লে-জোন। কিন্তু সমন্বিত ও সুসংগঠিত। শিশুদের বয়স, মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পর্যায় নির্ধারণ করে সাথে সাথে অভিভাবকের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। জানালেন, প্রি-স্কুলে শিশুর বয়স ও মানসিক বিকাশের ধরণ অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান করা হয়।

শিশু বিকাশের চারটি মটোর বা স্তর রয়েছে। ফাইন, গ্রোস, সোস্যাল এবং ইমোশানাল। তার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ কর্মীর মধ্য দিয়ে এই বিকাশের এই চার পর্যায়কে মাথায় নিয়ে কাজ করা হয়।

কর্মজীবী অভিভাবকদের কথা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ডে কেয়ারিং-এর ওপর। ছয় মাস থেকে দশ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের এখানে রেখে অভিভাবকেরা তাদের কর্মস্থলে যেতে পারে। সানিয়া জানান, কিছু এসেসমেন্ট করার পর বিশেষ করে বাচ্চাদের মনোবিকাশের কয়েকটি পর্যায় পর্যালোচনা করা পর তাদের পরিচর্যা করা হয়।

ডে কেয়ারে ভর্তিকৃত বাচ্চারা ডে-কেয়ারিং-এর পাশাপাশি প্লেজোনের সকল সুবিধা পায়। তাদের কেয়ারিং-এর জন্য দক্ষ কর্মীরা কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

ডে-কেয়ারিং এর সাথে প্রি-স্কুল ফ্রি। ডে-কেয়ারের শিশুর অভিভাবকদের কথা মাথায় রেখে পুরা কেন্দ্রটি সিসি ক্যামেরার আওতাভূক্ত করা হয়েছে। অভিভাবকেরা চাইলে তাদের বাচ্চারা কি করছে, কি অবস্থায় আছে তা অফিসে বা বাসায় বা যেকোনো স্থান থেকে দেখতে পারবেন।

প্লে জোনে রয়েছে বাচ্চাদের পছন্দের বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন খেলনা। অনেকটা আধুনিক মনো- বিকাশে শিশুদের যথেষ্ট সহযোগী। বর্তমানে প্লে-জোন কেন্দ্রিক হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ঢাকা শহরে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সামিয়া তাসমীন জানান, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা আছানিয়া মিশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, সে কারণে মিশনের মূল মন্ত্র ‘স্রষ্টার এবাদত এবং সৃষ্টের সেবা’- বিষয়টি বিবেচ্য।

এই প্রতিষ্ঠানের লাভের অংশ ব্যয় হবে জনহিতকর বিভিন্ন কর্মকান্ডে। তাই একদিকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষ করে শিশুদের সুস্থ বিকাশের কথা চিন্তা অন্যদিকে কল্যাণমূলক কাজের কথা চিন্তা করে এই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু।