যুদ্ধের সময় বিচ্ছেদ, দেখা ৬৫ বছর পর, অতঃপর….

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৮

দীর্ঘ ৬৫ বছর পর উত্তর কোরিয়ায় থাকা পরিবারের দেখা পেলেন এক বৃদ্ধা৷ কোরীয় যুদ্ধের পর কয়েক লাখ মানুষ তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই কোরিয়ায় অবস্থান করছেন৷ সোমবার তাদের কয়েকজন স্বজনদের সাথে দেখা করার সুযোগ পেলেন৷

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধের সময় দুই কোরিয়ায় ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছিলেন লাখো পরিবারের সদস্যরা৷ সোমবার এমন পরিবারগুলোর ৮৯ সদস্য স্বজনদের সাথে মিলিত হলেন উত্তর কোরিয়ার রিসোর্ট মাউন্ট কুমগাংয়ে (যেটিকে বলা হয় ডায়মন্ড মাউন্টেন বা হীরক পাহাড়)৷ দুই কোরিয়ার মধ্যকার সীমান্ত পার হয়ে দক্ষিণ থেকে তাঁরা উত্তরে এসেছিলেন স্বজনদের সাথে দেখা করতে৷ একদিকে আনন্দ আর অন্যদিকে এতদিন দেখতে না পাওয়ার বেদনা– এক বেদনা-মধুর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছিল সেখানে৷

৯২ বছরের লি কিউম জিওম তাঁর ছেলের দেখা পেলেন ৬৫ বছর পর৷ যুদ্ধের সময় নবজাতক কন্যাসন্তান তাঁর সঙ্গে ছিল, কিন্তু স্বামী আর ছেলে উত্তর কোরিয়ায় পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন৷ উত্তর কোরিয়াতে থাকা নিজের পরিবারের ছবি দেখালেন তাঁর ছেলে, যেখানে প্রয়াত স্বামীর ছবিও ছিল৷ লি জানালেন, তিনি কল্পনাতেও ভাবেননি, একদিন ছেলের দেখা পাবেন৷ এমনকি এতদিন জানতেনও না ওরা বেঁচে আছে, না মরে গেছে৷

যুদ্ধের পর দুই কোরিয়া একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছালেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল৷ সরাসরি চিঠির আদান-প্রদান, টেলিফোনে কথা বলা– সব ধরনের যোগাযোগ ছিল নিষিদ্ধ৷ ২০০০ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক আন্তঃকোরীয় শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ এরপর থেকে শুরু হয় এই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি৷

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ উত্তর কোরিয়ায় যেতে চানএমন নাগরিকদের বিপুল পরিমাণ আবেদনপত্র পান৷ লটারির মধ্যে থেকে সেগুলো বাছাই করেন তাঁরা৷ তবে উত্তর কোরিয়া ঠিক কীভাবে এদের নির্বাচন করে, সেটা স্পষ্ট নয়৷ তবে এটা ঠিক, পিয়ংইয়ং তাঁদেরই প্রাধান্য দেয়, যাঁরা সরকারের প্রতি আস্থাভাজন এবং অনুগত৷ দুই পক্ষেই আবেদনপত্র গ্রহণ হলো কিনা তা জানতে এমনকি বছরের পর বছর চলে যায়৷ গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় আবেদন করেছিলেন এমন ৩,৮০০ নাগরিক এ বছর মারা গেছেন৷ এমনও দেখা গেছে, বছরের পর বছর অপেক্ষা করার পর মৃত্যুর আগে হয়ত একবারই প্রিয়জনের দেখা পেয়েছেন কেউ কেউ৷ এই দফায় ৯৩ জন নির্বাচিত হয়েছিলেন৷ কিন্তু এদের মধ্যে চার জনের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তাঁদের পক্ষে সফর করা সম্ভব হয়নি৷

বছরে একবার দুই কোরিয়ার নির্বাচিত মানুষেরা প্রিয়জনের সাথে দেখা করার সুযোগ পান৷ ২০১৫ সালের পর অবশ্য এটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কেননা, উত্তর কোরিয়া তখন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করেছিল৷ কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ঐতিহাসিক সম্মেলনে অংশ নেন৷ ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন শুরু হয়৷ এরই ফলশ্রুতিতে এ বছর দুই কোরিয়ার মধ্যে এই পুনরেকত্রীকরণ আয়োজন করা হয়েছে৷