যুবতীকে আটকে রেখে কবিরাজের ধর্ষণ!

প্রকাশিত: ৭:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০ | আপডেট: ৭:৩৭:অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০
ছবি: টিবিটি

গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ধর্ষণকারীএক ভন্ড কবিরাজকে আটক করেছে র‌্যাব-১ সদস্যরা। রোববার রাতে ধর্ষক কবিরাজ হাজী মো. শামছুর রহমান (৫৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব স্পেশালাইজড কোম্পানী পোড়াবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানায়, গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায়(ইমনের বাড়ীর ভাড়াটিয়া) এক যুবতী (৩০)‘কে কবিরাজ হাজী মো. শামছুর রহমান চান্দনা রওশন সড়ক এলাকায় একটি ঘরে আটকিয়ে রেখে মেরে ফেলার হুমকী দিয়ে বাদীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের বিষয়টি বাদী তার পিতা মাতাসহ নিকটতম আত্মীয় স্বজনের কাছে বলতে চাইলে বিবাদী তাকে মারপিট করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ মেরে ফেলার হুমকি দেয়। দীর্ঘ ১০ বছর যাবত বিবাদীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম গত ৩১ মে গাজীপুর র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে এসে বিবাদীর বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় রাত সাড়ে ৯ টার সময় ভন্ড কবিরাজ মো. শামছুর রহমানকে আটক করেন। বিবাদী চৌরাস্তা আন্ডার গ্রাউন্ড মার্কেটে গনি মিয়ার কবিরাজ ঘরে বসে বিভিন্ন মহিলাদের তাবিজের তদবির করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কবিরাজ হাজী মো. শামছুর রহমান ১০/১১ বছর পূর্ব হইতে ভিকটিমের সাথে সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন বাসায় আটকিয়ে রেখে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বিবাদী যৌন ও শারিরীক নির্যাতন করে। বিবাদী একজন ভন্ড কবিরাজ। এর ফলশ্রুতিতে ভিকটিম ৫/৬ বার অন্তঃসত্তা হলে বিবাদী ভিকটিমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বারবার গর্ভপাত করিয়ে ফেলে।

ভিকটিম উক্ত বিষয়ে তার পিতা মাতাকে অবগত করতে চাইলে ভিকটিমকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন সহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

ঘটনার বিষয়ে বিবাদী কে জিজ্ঞাসা করা হলে ভন্ড কবিরাজ স্বীকার করেন যে, তাদের দু জনের কোন বিবাহ হয় নাই ও কোন কাবিন নামা নাই। সে দীর্ঘ দিন যাবত ভিকটিমকে ভয় দেখিয়ে তার একটি বাসায় আটক রেখে ধর্ষণ করে আসছে। উক্ত কবিরাজের বিরুদ্ধে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে জিএমপি গাছা থানায় মামলা দায়ের করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৯(১)। উক্ত কবিরাজ বিভিন্ন মহিলাকে ভয় দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করে বলে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পেরেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।