যেভাবে ইউরোপ হবে বিশ্বের ‘শীর্ষ তথ্য-মহাদেশ’

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০ | আপডেট: ৯:২৭:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

তথ্যপ্রযুক্তির হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের আধিপত্যকে টক্কর দিতে ইইউ বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে ভাবছে, যা বাস্তবায়িত হলে তথ্যের দৌড়ে অনেকটাই এগোবে ইউরোপ৷

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বাজার বিষয়ক কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন ও ইইউ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্গরেট ভেস্টাজের বুধবার ব্রাসেলসের একটি সংবাদসম্মেলনে জানান যে, শিগগিরই তথ্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কয়েকটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন তাঁরা৷ কীভাবে ইউরোপের নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থারা তাঁদের তথ্য আরো ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন, তা-ই নিশ্চিত করবে ইইউ’র প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলি৷

সংবাদমাধ্যমকে ব্রেটন বলেন যে, এই নীতিগুলির বাস্তবায়ন ইইউকে বিশ্বের ‘এক নম্বর তথ্য-মহাদেশ’ বানাতে সাহায্য করবে৷ এতে করে ২০১৬ সালে চালু হওয়া কঠোর তথ্যপ্রযুক্তি আইনে কোনো বদল না আসলেও ইউরোপের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও গবেষণা সংস্থার কাছে তথ্য আরো সহজলভ্য করে তোলা হবে৷ এই পদক্ষেপগুলি ইউরোপের ডিজিটাল অর্থনীতিতে মার্কিন ও চীনা আধিপত্য কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিব্যবস্থাকে বাড়তি সুযোগ দেবে বলে মনে করছেন ব্রেটন ও ভেস্টাজের৷

যেভাবে স্বনির্ভর হবে ‘তথ্য মহাদেশ ইউরোপ’

একটি ‘ডাটা হাব’ বা তথ্যভাণ্ডার চালু করার কথা রয়েছে এই নতুন পরিকল্পনায়, যা ইউরোপের অভ্যন্তরীণ তথ্যকে সহজলভ্য করবে স্থানীয় সংস্থাদের কাছে৷ কিন্তু এবিষয়ে উঠছে তথ্যসুরক্ষার প্রশ্ন, যা ইউরোপের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়৷

এর উত্তরে, নতুন পরিকল্পনার ভূমিকা নিয়ে ভেস্টাজের বলেন, ‘‘ইউরোপের ভেতরে ইউরোপীয় সংস্থাদের ব্যবহারের জন্য মুক্ত তথ্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা জোগাবে৷ তবে সব তথ্যই যে মুক্তভাবে ছেড়ে দিতে হবে, এমনটা নয়৷ কিন্তু যদি তা করা হয় এবং দেখা যায় যে সেই তথ্য কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ, সেক্ষেত্রে এই ধরনের তথ্যের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে৷’’

গুগল ও ফেসবুকের মতো বড় প্রযুক্তি প্লাটফর্মের বর্তমান মডেলের সামনে ইউরোপের এই ‘নিয়ন্ত্রিত অথচ মুক্ত’ ধাঁচের মডেল নতুনত্ব বয়ে আনবে, বলে মত ভেস্টাজেরের৷ এইসব বিশেষ তথ্যের ভাণ্ডারকে তিনি বিদ্বেষী মনোভাব, ভুয়া খবর ও জাল পণ্যের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণেও কাজে লাগাতে চান৷ শুধু তাই নয়, নতুন পরিকল্পনা চালু হলে গুগল ও ফেসবুক যে অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার করে, তা-ও এই তথ্যভাণ্ডারের কাছে জমা দিতে হতে পারে৷

ব্রেটনের মত, এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন হলে লাভবান হবেন ইউরোপের ছোট ব্যবসায়ী ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থারা৷ সাথে, লাভবান হতে পারে চিকিৎসা পরিষেবা, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ থেকে উন্নত কৃষিপ্রযুক্তিও, বলছে ইইউ৷

এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে খরচ হতে পারে মোট সাত থেকে এগারো বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭০ হাজার কোটি থেকে এক লাখ দশ হাজার কোটি বাংলাদেশি টাকা)৷