যে ইচ্ছা অপূর্ণই থেকে গেল কবরীর!

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৫:৫৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

ছোট শহর হলেও মানুষ অনেক বিনোদনপ্রিয়। তাইতো নায়িকার নাম অনুসারেই স্বীকৃতি নিয়েই আজ দাঁড়িয়ে আছে ‘কবরী রোড’। ১৯৬৯ সালে সদ্য প্রয়াত অভিনেত্রী কবরী অভিনীত ‘কখগঘঙ’ সিনেমার শুটিং করা হয় চুয়াডাঙ্গা শহরে। আর কবরী যে বাড়িতে ছিলেন সেই বাড়িসংলগ্ন সড়কের নামকরণ করা হয় ‘কবরী রোড’। কবরীর ইচ্ছে ছিল তিনি একবার সড়কটি দেখে যাবেন। কিন্তু শেষ ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

চুয়াডাঙ্গা শহরের ‘সেতাব মঞ্জিল’ নামের বাড়িতে ১৯৬৯ সালে কখগঘঙ সিনেমার শুটিং করা হয়। সিনেমার খাতিরে ওই বাড়িতেই থাকতেন কবরী-রাজ্জাকসহ সিনেমার পুরো টিম। আর সেই বাড়িকে কেন্দ্র করেই ওই পুরো রাস্তার নাম হয়েছে কবরী রোড যা শহরের সংস্কৃতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কবরীর নামে ১৯৬৯ সালে সড়কটির নামকরণ হয়। ভক্তদের ভালোবাসায় ৫২ বছর ধরে রাস্তাটি টিকে আছে। এই রাস্তায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি অফিস, অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দারের বাসভবন। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনের বাড়িও এই সড়কে। চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক বেবী ইসলামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়।

১৯৬৯ সালে চুয়াডাঙ্গায় শুটিং হয়েছিল নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘কখগঘঙ’ সিনেমার, যার প্রধান চিত্রগ্রাহক ছিলেন বেবী ইসলাম এবং সহকারী চিত্রগ্রাহক মোরশেদ আহমেদ ওরফে তোফা মিয়া। এই দুজন সম্পর্কে ছিলেন মামাতো-ফুফাতো ভাই। কাহিনীর প্রয়োজনে সিনেমাটির বড় একটি অংশের শুটিং হয়েছিল মোরশেদ আহমেদের চুয়াডাঙ্গা শহরের বাড়িতে। এই বাড়ির অবস্থান বর্তমানের কবরী রোডে। বাড়ির মালিক সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। বাড়ির একটি অংশে ব্যবসায়ী আখের আলী স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ থাকেন। অপর অংশ ‘কবরী মেস’ নামে পরিচিত।

ওয়াপদাপাড়ার কবরী রোডের একাংশ (ইনসেটে কবরী)। ছবি: সংগৃহীত

‘ক খ গ ঘ ঙ’ সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সারাহ বেগম কবরী, রাজ্জাক, আনোয়ার হোসেন, সুরস্রষ্টা আলতাফ মাহমুদ, রহিমা খালা ও বেবী ইসলামের স্ত্রী তন্দ্রা ইসলাম। ‘১৯৬৯ সালে যখন চুয়াডাঙ্গায় “কখগঘঙ” সিনেমার শুটিং হয়, তখন কবরী খুব জনপ্রিয় ছিলেন। সবাই দেখতে আসত। বলত, কবরী কোথায় থাকে? লোকজন দেখিয়ে দিত, ওই যে ওই বাড়িতে। রিকশা চালকেরা উৎসুক লোকজনকে নিয়ে আসতেন। শুটিংয়ের এক মাসেই এভাবে মুখে মুখে বোধ হয় রাস্তাটির নাম কবরী রোড হয়ে গেছে।

২০১৬ সালে ঢাকার একটি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে সারাহ বেগম কবরী বলেছিলেন, আমাকে বললে আমি যাব। নিজ খরচেই যাব। বেঁচে থাকতে রাস্তাটি দেখে যেতে চাই। কিন্তু সেই ইচ্ছা তার আর পূরণ হলো না।