যে স্ট্যাটাসের কারণে গ্রেফতার হলেন কবি হেনরী স্বপন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০৯:পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কবি হেনরী স্বপনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে নিলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, বরিশাল নগরীর উদয়ন স্কুল সংলগ্ন ক্যাথলিক চার্চের ফাদার লরেন্স ল্যাকা ডালিয়ে গোমেজ মামলাটি করেছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওই মামলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

বরিশাল কবিতা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মেহেদি হাসান বলেন, সম্প্রতি শ্রীলংকায় বোমা হামলার বিষয় নিয়ে হেনরী স্বপন প্রতিবাদমুখর ছিলেন। শ্রীলংকায় যে মানবিকতার বিপর্যয় হয়েছে, তার প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

শ্রীলংকায় হামলার পরে নিজ সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠান ঘিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করেন। আমি মনে করি, তিনি একটি যৌক্তিক বিষয় নিয়ে লিখেছেন। তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলা পরবর্তী একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নিজ (খ্রীস্টান) সম্প্রদায়ের সঙ্গে হেনরি স্বপনের বিরোধ দেখা দেয়। ওই স্ট্যাটাসটিতে বরিশাল ক্যাথলিক বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদারকে উদ্দেশ্য করে হেনরী স্বপন শিরোনাম দিয়েছিলেন ‘রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে’।

পাঠকদের জন্য হেনরী স্বপনের সেদিনের স্ট্যাটাসটি তুলে দেওয়া হলো-

‘রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে।
——————————————

রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো নাকি বাঁশি বাজাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় শত শত মানুষ নিহতের অকস্মিকতায় যখন শোকস্তব্দ বিশ্ববাসী, তখন বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার চার্চ চত্বরে করছেন সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান।

গতকাল, ২২ এপ্রিল, বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার বিভাগীয় শহর বরিশাল ধর্মপল্লির সকল পুরোহিত, সিস্টার, ব্রাদার এবং সাধারণ খ্রিষ্টভক্তদের নিয়ে ডাইওসিসের হলরুমে নাচ, গান এবং ব্যান্ড শো এর মাধ্যমে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান করেন। শ্রীলঙ্কার খ্রিস্ট সমাজের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের এ রকম আয়োজনকে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ এবং জামে কসাই মসজিদের ইমাম ও বরিশালের সকল নেতৃবৃন্দ এটিকে দু:খজনক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।’