যৌন উত্তেজক সিরাপ দিয়ে ফ্রুট ড্রিংকস তৈরি, আটক ৩

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ৯:১৮:পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহিত

পাবনায় যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাতে সদর উপজেলায় আফুরিয়া ফাস্ট ফিলিংস নামে একটি কারখানা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে কারখানাটি সিলগালা করা হয়।

আটকরা হলেন- রাজা, কাদের মিয়া ও নজরুল। তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

গত কয়েক বছর ধরে পাবনার বিভিন্ন স্থানে ফ্রুট ড্রিকসের মোড়কে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে একটি চক্র। চক্রটি একটি সমিতির ব্যানারে অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এসব সিরাপ খেয়ে বেকার যুবক থেকে শিক্ষার্থীরাও আসক্ত হয়ে পড়েছে।

নওগাঁর এডিশনাল এসপি লিমন রায় বলেন, এরইমধ্যে নওগাঁতে যৌন উত্তেজনা সিরাপ খেয়ে এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে নারীকে হত্যার পর তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ পাবনা সদর উপজেলার আফুরিয়া ফাস্ট ফিলিংস নামের ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায়। এ সময় তিনজনকে আটক ও বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধারসহ ফ্যাক্টরি সিলগালা করা হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ফ্যাক্টরিতে হট ফিলিংসসহ তিন আইটেমে ড্রিংকস তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুদির দোকানে বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক এ পানীয় তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফ্যাক্টরির মালিক পাবনার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায় থাকায় এ বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

লিমন রায় আরো বলেন, এই ফ্যাক্টরির উৎপাদিত হট ফিলিং ড্রিংকস সেবন করে নওগাঁয় এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অতিমুনাফার জন্য পাবনায় একটি চক্র এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। তারা ২২ জনের একটি সমিতি করে এই উত্তেজক সিরাপ তৈরি ও বাজারজাত করছেন।

পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, ড্রাগের চেয়েও ক্ষতিকর এই সিরাপটির অন্তত অর্ধশত কারখানা রয়েছে পাবনায়। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তারা এই সিরাপ তৈরি করছেন। ট্রাকচালক, রিকশাচালক থেকে শুরু করে বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীরা এই পণ্যটির ভোক্তা।

চিকিৎসক রাম দুলাল ভৌমিক বলেন, এ ধরনের মান নিয়ন্ত্রণহীন যৌন উত্তেজক সিরাপ সেবনে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা দেখা দিলেও দীর্ঘ মেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে লিভার, কিডনি ড্যামেজের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে সেবনকারীরা। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানান তিনি।

ওই কারখানার মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার মন-মানসিকতা ভালো নেই। একটু সহযোগিতা করেন।