যৌন নিপীড়ক সেই শিক্ষককে নির্দোষ বললো আরেক ছাত্রী

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১২:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯

যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুলকে নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দিয়েছেন ওই বিদ্যালয়েরি আরেক ছাত্রী।

শনিবার বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা চলাকালে হঠাৎ এক ছাত্রী মাইক্রোফোন চেয়ে নিয়ে নিপীড়ক সাইফুলকে নির্দোষ বলে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। বক্তব্য শুরুর পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত অভিভাবকরা। পরে সভামঞ্চে থাকা অতিথিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের নানা অনিয়মের ব্যাপারে অভিভাবকদের কথা শুনছিলেন জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা। হঠাৎ হাতে মাইক নিয়ে এক ছাত্রী বক্তব্য শুরু করেন- বলেন, ‘আমাদের কি শিশু মনে করেন আপনারা? আমরা এখনো কি আর ছোট আছি? নেই। আমরা এখন বুঝতে শিখেছি। আমাদেরকে বড় ভাববেন, তবে জেনে রাখেন আমার শিক্ষক সাইফুল কোন যৌন নিপীড়ক হতে পারে না।’

‘চুমু দিলেই যৌন নিপীড়ক হওয়া যায় না। আর অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের স্যাররা আমাদের থেকে কোন অতিরিক্ত টাকা নেন না। যারা আমার স্যারদের দোষারোপ করেন তারা মিথ্যা বলেন।’ বক্তব্যের এক পর্যায়ে তাকে থামিয়ে দেন উপস্থিত অবিভাবকরা। তখন সকলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

এ ঘটনার ব্যাপারে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, সকল অভিভাবক যখন প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন তখন নিজেদের পক্ষে কথা বলার জন্য এক শিক্ষিকা মারফত ওই ছাত্রীকে ডেকে পক্ষে কথা বলতে শিখিয়ে দেন। পরে অবশ্য ওই ছাত্রী পুরো বিষয়টি স্বীকার করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল ইসলামের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী, শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ, জর্জকোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোর্ত্তোজা আলী বাবলু, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, ইতিহাসবিদ খালিদ বিন জালাল, আইনজীবী খগেন্দ্রনাথ রায় প্রমুখ।