রক্ষক পুলিশ যখন ভক্ষক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

টিবিটি সারাবিশ্বঃ‘লাভ জিহাদের’ দোহাই দিয়ে ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরুটে মেডিক্যাল পড়ুয়া দুই তরুণ-তরুণীকে মারধর করে বাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায় উগ্র ডানপন্থি একটি হিন্দু সংগঠনের লোকজন। পরে তাদের পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়।

অত্যাচার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পরও থামেনি। ওই তরুণ-তরুণীকে পুলিশের পৃথক গাড়িতে করে থানায় আসা হচ্ছিল। রক্ষক পুলিশ হয়ে যায় তখন ভক্ষক। পুলিশের গাড়িতেই আবার চলে ওই তরুণীর ওপর নির্যাতন। মেয়েটির একমাত্র ‘অপরাধ’ সে কেন মুসলিম যুবকের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়েছে।

মঙ্গলবার এনডিটিভির এক প্রতিবেদন বলছে, এই ঘটনায় চারজন পুলিশকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের একটি জিপের পিছনের সিটে একজন নারী ও একজন পুরুষ কনস্টেবলের মাঝে বসে আছেন এক তরুণী। দুজন পুলিশ গাড়ির সামনের সিটে। চালকের আসনে বসা একজন পুলিশ তার মোবাইলে ভিডিও করছিলেন। ওই পুলিশ বলছে, আশাপাশে এত হিন্দু ছেলে থাকতে কেন ওই তরুণী একজন মুসলিম যুবককে পছন্দ করল?

এরপর ওই নারী কনস্টেবল তরুণীটিকে থাপ্পড় মারতে শুরু করেন এবং তার মুখে ঢাকা ওড়না টেনে খুলে ফেলেন। ভিডিওটি পুলিশ কনস্টেবল তার সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করলে তা গণমাধ্যমের কাছে এসে পৌঁছায়।

মেডিক্যাল পড়ুয়া এক মুসলিম ছাত্র তার বাড়িতে ওই তরুণীর সঙ্গে পড়াশুনা করছিলেন। তারা দুজন সহপাঠী এবং বয়স ২০-এর গোড়ার দিকে। উগ্র হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)’র কয়েকজন লোক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে টেনে হিঁচড়ে দুজন নিয়ে আসে এবং মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

হামলাকারীরা দুজনের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’ করার অভিযোগ আনে। ভারতে কোনো হিন্দু-মুসলিম প্রেমের সম্পর্কে জড়ালেই উগ্র ডানপন্থি হিন্দুরা একে ‘লাভ জিহাদ’ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছে।

রবিবারে পুলিশ যখন তাদের ‘উদ্ধার’ করে পৃথক গাড়িতে করে নিয়ে আসছিল তখনই এই ভিডিও ধারণ করা হয়।

মিরুটের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা কুমার রনবিজয় সিং বলেন, ‘পুলিশ যা করেছে তা মোটেও তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এই কারণে আমরা তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছি। আমরা ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন আসার পর তাদের বিরুদ্ধে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

থানায় আনার পরও ওই তরুণ-তরুণীর ওপর অত্যাচার থামেনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোকজন পুলিশের সামনেই তাদের মারধর করে। অতিরিক্ত পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় জড়িত লোকদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

রনবিজয় সিং আরো বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ওই তরুণ-তরুণী লিখিত অভিযোগ করবেন। কিন্তু তারা করেননি।’