রমজান: করোনার বিরুদ্ধে মুসলমানদের শক্তিশালী অস্ত্র

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪০:অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস হচ্ছে মাহে রমজান। বলা হয় যে এই মাসে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন শয়তানকে বেধে রাখেন যেন বান্দারা তাঁর ইবাদতে মননিবেশ করতে পারে।

সারা দুনিয়া এখন অদৃশ্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। যেহেতু এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ হবার জন্য এখনো কোন ওষুধ এবং আবিষ্কৃত হয়নি নতুন কোন ভ্যাকসিন তাই এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি দরকার শক্তিশালী শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

গত কয়েক বছর ধরে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে রোজা পড়ছে, তাই অনেক গরম এবং প্রায় ১৪-১৫ ঘন্টা ব্যাপী রোজা পালন করতে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষদেরকে। চলমান এই করোনাকালে এক মাসব্যাপী এই রোজাই হতে পারে করোনা প্রতিরোধে মুসলমানদের জন্য বড় একটি অস্ত্র।

বিভিন্ন সময় চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে রোজা রাখার ফলে ইমিউন সিস্টেম আরো বেশি শক্তিশালী হয়। এর কারণ হিসাবে বলা যায় যে রোজা রাখার কারনে আমাদের শরীর শক্তি ধরে রাখার জন্য তার পুরনো এবং দুর্বল ইমিউন সেলগুলোকেও পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করেন তোলে, নতুন করে পুনরুজ্জীবিত এই সেলগুলোই শরীরে ইমিউন সিস্টেম উন্নয়নে সাহায্য করে এবং দ্রুত আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সারাদিন রোজা রেখে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা পানি না খেয়ে থাকার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ইফতার থেকে সেহেরী পর্যন্ত সময়ে সারাদিনের এই পানির ঘাটতি অবশ্যই পূরণ করে নিতে হবে এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বেশি কার্যকরী হয়ে ওঠে।

সাধারণত রোজার প্রথম কয়েকদিন একটূ সমস্যা হতে পারে, আমরা সেহেরীতে যে খাবার খাই সেটি হজম হতে সাধারণত ৮ ঘন্টা সময় নেয়, পরবর্তীতে এই খাবার হজমের পরে বাকী সময়টাতে আমাদের শরীর তার প্রয়োজনীয় শক্তি নেয় যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকা গ্লুকোজ থেকে।
শরীর যখন এই মেকানিজমটি শুরু করে তখন আমাদের চর্বি খরচ হয় এবং এটি আমাদের ওজন কমিয়ে আনে, ফলে কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুকি কমে যায়।

রোজার মাঝামাঝি সময়টাতে আমাদের শরীর সারাদিন না খেয়ে থাকার এই অভ্যাসের সাথে মানিয়ে নিতে থাকে, সাধারণত আমরা আমাদের স্বাভাবিক দিনগুলোতে বেশি ক্যালরীযুক্ত খাবার সারাদিন ধরেই খাই তাই আমাদের শরীর সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে সেগুলো নিয়ে, কিন্তু রোজার এই সময়ে শরীর নিজের সেই হারিয়ে ফেলা বা অসুস্থ হয়ে যাওয়া কোষগুলোকে মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়ে যায়।

রোজার শেষের ভাগে আমাদের শরীর পুরোটাই অভ্যস্ত হয়ে যায়, এই সময়টাতে আপনি অনেকটাই শারীরিকভাবে হালকা মনে করতে শুরু করবেন, বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শরীর থেকে দূষিত বস্তু বের হয়ে শরীর শুদ্ধ হতে শুরু করবে। সেই সাথে ইমিউন সিস্টেমের অকেজো কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়ে কাজ করা শুরু করবে। মাংসপেশি থেকে শক্তি নেওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত থাকবে শরীর। ডায়বেটিস এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাড়তি ওজন কমে গিয়ে আপনি হয়ে উঠবেন শারীরিকভাবে শক্তিশালী।

যেহেতু বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ডায়বেটিস এবং উচ্চরক্তচাপের রোগীদের মধ্যে করোনায় আক্রান্তের ঝুকি বেশি তাই রমজানের এই এক মাসব্যাপী রোজা হতে পারে করোনা প্রতিরোধে তাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তবে ইফতার এবং সেহেরীতে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

রমজানে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি চলুক নিয়ম মেনে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, সেই সাথে পরিস্কার পরিচ্ছনতা মেনে চললেই এই রমজানেই আমরা অদৃশ্য শত্রু করনার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবো।