রাকসু নির্বাচন: রাবি ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদল কী ভাবছে!

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৯

দীর্ঘ ২৮ বছর রাকসু অচল থাকার পর যখন রাকসু নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে তখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বিভন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন গুলো মাথা চেড়ে বসেছে। চায়ের কাপের আড্ডায় রাকসু নিয়ে কথা বলতে গেলে সবার মুখে আসে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের কথা, আসলে তারা কী ভাবছে?

আজ রাকসু নির্বাচনের সমসাময়িক বিভন্ন বিষয় নিয়ে দি বাংলাদেশ টুডে এর সাথে কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু এবং ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি – মুজাহিদ হোসেন

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ বিভন্ন সময় রাকসু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়াও আমরা বিভন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি এবং আমরা জানতে চেয়েছি সাধারন শিক্ষার্থীরা কেমন রাকসু নির্বাচন চাই। সাধারন শিক্ষার্থীদের চাওয়াগুলো আমরা সংলাপের মাধ্যমে প্রশাসন এর কাছে জানাবো। রাকসু নির্বাচনের জন্য সুন্দর পরিবেশ আছে বলে আমি মনে করি এবং সেই জায়গা থেকে রাকসু নির্বাচন একটা সুষ্ট অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আমি আশাবাদী।

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

কামরুল হাসান:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর মাধ্যমে আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল চাই সাধারন শিক্ষার্থীরে পাশে থাকতে । বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেহেতু জাতির বিবেক সেহেতু তাদের সামনে দু:শাসন চিত্র ওঠায় নিয়ে এসে সাধারন শিক্ষার্থীদের আধিকারের কথা বলতে আমরা রাকসু চাই।

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচন কেন প্রয়োজন ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাকসু নির্বাচন অবশ্যই প্রয়োজন। রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটা মত প্রকাশের জায়গা তৈরি হবে। রাকসু নির্বাচন হলে সকল শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী সাধারন শিক্ষার্থীদের বিভন্ন সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারবে এবং সাধারন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সিনেটে কথা বলার সুযোগ আরো বেশি থাকবে । রাকসু নির্বাচন আমাদের ভবিষৎ দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি হবার প্লাটফরম বলে আমি মনে করি ।

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচন কেন প্রয়োজন ?

কামরুল হাসান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সবসময় সাধারন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চাই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে রাবি ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের থেকে অনেকদিন দূরে আছে । কিন্তু রাকসু নির্বাচন এর মাধ্যমে আমরা একটা আশার সঞ্চার পাচ্ছি । আর রাকসু নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সাধারন শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আমাদের জন্য । আমি মনে করি সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় রাকসু নির্বাচন প্রয়োজন।

প্রতিবেদক: রাকসু এতদিন ধরে অচল এটার দায় কার ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাকসু এতদিন অচল এখানে দায়ী করা কাউকে ঠিক হবে না। আমরা বিভন্ন ছাত্রসংগঠন গুলো রাকসু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছি,আমারা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আমাদের দল থেকেও অনেকবার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু অন্যদিকে প্রশাসন হয়ত বিভন্ন পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে রাকসু নির্বাচন দেয়নি।

কামরুল হাসান: রাকসু এতদিন অচল হওয়ার পিছনে প্রশাসনকেই দায়ভার নিতে হবে । রাকসু শিক্ষার্থীদের দাবি রক্ষার্থে একটি প্লাটফরম হিসাবে কাজ করে । কিন্তু ২৭বছর রাকসু থেকে সাধারন শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করেছে রাবি প্রশাসন,এতে হয়ত সরকার দলীয় প্রশাসনের অন্য কোন স¦ার্থ ছিল বলে আমি মনে করি । যার ফলে সাধারন শিক্ষার্থীরা তাদের বিভন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচনের পরিবেশ কী এখন আছে ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীতের অবস্থা থেকে বর্তমানে অবস্থা এখন অনেক ভাল। বর্তমানে ক্যাম্পাস শান্ত এবং পড়াশুনার একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আমি মনে করি এমতাবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং বিভন্ন ছাত্রসংগঠনের সহযোহিতায় একটা সুুষ্ঠ নির্বাচন হওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি ।

কামরুল হাসান: বাংলাদেশ ছাত্রদল সবসময় সাধারন শিক্ষার্থীদের কথা বলে আসছে এবং বিভন্ন প্রতিকূল পরিবেশে রাবি ছাত্রদল ক্যাম্পাসে এসে সাধারন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সরকার দলীয় প্রশাসন, ছাত্রলীগের কারনে আমাদের বিভন্ন বাধার মুখে পড়েছি। বর্তমানে রাকসু নির্বাচন এর পরিবেশ আছে বলে আমি মনে করি না। সহাবস্থান নিশ্চিত একমাত্র প্রশাসনই করতে পারে এজন্য আমাদের প্রশাসন এর কাছে দাবি থাকবে সবদলের অংশগ্রহনে একটা সুস্থ নির্বাচন।

প্রতিবেদক: রাকসু নির্বাচন উপলক্ষ্যে আপনারা কোন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন কী না ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: শিক্ষার্থীদের ভোটে রাকসুর নেতৃত¦ তৈরি হবে এজন্য শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়া তাদের ভাবনা শোনা অবশ্যই জরুরি এবং এ বিষয়ে আমাদের দল থেকে খুব শিঘ্রীই একটা পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছি। এছাড়াও সাধারন শিক্ষার্থীদের বিভন্ন সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করেছে এখান থেকে সাধারন শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের একটা একটা গ্রহনযোগ্যাতা আছে বলে মনে করি।

কামরুল হাসান: রাকসু নির্বাচনে যেহেতু সাধারন শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের দাবি দাওয়া প্রশাসন এর কাছে তুলে ধরবে সেহেতু সাধারন শিক্ষার্থীরাই আমাদের মূল সম্পদ বলে আমি মনে করি। আমরা রাবি ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব এবং এই পথ ধরে আমরা সামনে রাকসু নিয়ে বিভন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, খুব শিঘ্রীই আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের পরিকল্পনা হাতে নিয়ে যাব।

প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সাথে আলোচনার প্লান আছে কী না ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: রাকসু নির্বাচনে যে কয়টি ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন অংশগ্রহন করছে তাদের সাথে এক টেবিলে বসার প্লান আছে আমাদের । আমরা সবাই একসাথে বসে সামনে রাকসু নির্বাচন কীভাবে শান্তিপূর্ণ করা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব ?

কামরুল হাসান: আমরা খুব শিঘ্রীই রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এর নেতাকর্মীদের সাথে বসব। আমরা চাই সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটা সুষ্ট নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারন শিক্ষার্থীদের অধিকার ফিরেয়ে এনে দিতে।

প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কী দাবি থাকবে ?

ফয়সাল আহমেদ রুনু: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে সব দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা, অতিদ্রুত রাকসু নির্বাচন এর ব্যবস্থা করা এবং রাকসু নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে শক্তি যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে সে দিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে ।

কামরুল হাসান: একমাত্র প্রশাসনই পারে একটা অবাধ নিরপেক্ষ এবং গ্রহনযোগ্যতা নির্বাচন উপহার দিতে এজন্য প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে আমাদের রাকসু যেন কলঙ্কিত না হয় এবং প্রশাসন যেন সব দলকে সমান সুযোগ সুবিধা দিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে যেন কোন অনিয়ম সৃষ্টি না হয়। সাধারন শিক্ষার্থীরা কোন রকম সমস্যা ছাড়া তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে সেইরকম নির্বাচন আমি প্রশাসন এর কাছে চাই