রাকসু নিয়ে কিছু কথা

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 6:32 PM, February 10, 2019 | আপডেট: 6:32:PM, February 10, 2019
ছবি : টিবিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নিয়ে সংলাপ এ বসতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পর রাকসু নির্বাচন শুরু হয় এবং শেষ রাকসু নির্বাচন হতে দেখা যায় ১৯৮৯-১৯৯০ সময়ে,তারপর দীর্ঘ ২৮ বছর রাকসু অচল। রাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া খুব সহজে প্রশাসনের কাছে জানানোর জন্য একটি অন্যতম প্লাটফম বলে সাধারন শিক্ষার্থীরা জানে, কিন্তু রাকসুর গঠনতন্ত্র সম্পর্কে অনেকে কিছু জানে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য:  ১. শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী তৈরী করা। ২.রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এর সংযুক্ত কলেজ এবং বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগী মনোভাব, ভাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মনোভাব তৈরী করা। ৩. শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা বলা, লেখালেখি, বিতর্কের দক্ষতা তৈরী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা নিতে সক্ষম করে তোলা। ৪. জনসভা করা, নাটক, সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা ৫. বিভিন্ন ক্রিড়ার আয়োজন করা ৬. একটি রিডিং রুম এবং একটি কমনরুম রাখা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জার্নালা বছরে কমপক্ষে একবার প্রকাশ করা। ৭. সদস্যদের দ্বারা বিভিন্ন মানবিক এবং সামাজিক কার্য পরিচালনা করা। ৮. কোন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে বিষয়ে বিতর্ক এবং সভা-সেমিনার আয়োজন করা ৯. বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ক্রিড়া প্রতিযোগিতা, লেখালেখি ও রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা। ১০. আন্ত: বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণ করা এবং অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের আসতে আহ্বান করা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন এর সদস্য বলে যারা গন্য হবে:  ১. বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক/ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এবং যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করেছে তারা এর সদস্য বলে গণ্য হবেন। ২. অনিয়মিত ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করলে এর সদস্য হতে পারবেন। ৩. সাবেক ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর বাৎসরিক ফি প্রদান করলে এর সদস্য হতে পারবেন। একজন ছাত্র যিনি পরপর ৪ বছর রাকসুর ফি প্রদান করেছেন তিনি পাশ কওে চলে গেলেও রাকসুর আজীবন সদস্য বলে গণ্য হবেন। ৪. কার্যনির্বাহী কমিটি চাইলে যেকোন ব্যক্তিকে সম্মানসূচক আজীবন সদস্যপদ দিতে পারবেন যিনি শিক্ষা, সংস্কৃতি, জাতীয় স্বার্থ ও মানবতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন।

সদস্যদের অধিকার এর ভিতরে থাকবে রাকসুর সকল সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অধিকার সকল সদস্যেও থাকবে। তবে অনিয়মিত এবং সাবেক ছাত্ররা কার্যনির্বাহী সংসদে কোন পদ পাবেন না। সদস্যপদ বাতিল হবে তখন যখন কোন ছাত্রের নাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ গেলে অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি বাতিল করলে ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর কার্যনির্বাহী কমিটি: ১. সভাপতি (উপাচার্য) ২. সহ-সভাপতি ৩. কোষাধ্যক্ষ ৪. প্রো-ভাইস প্রেসিডেন্ট ৫. সাধারণ সম্পাদক ৬. যুগ্ম- সা. সম্পাদক ৭. ক্রিড়া সম্পাদক ৮. সহ- ক্রিড়া সম্পাদক ৯. সাহিত্য সম্পাদক ১০. সহ-সাহিত্য সম্পাদক ১১. বিনোদন বিষয়ক সম্পাদক ১২. সহ-বিনোদন বিষয়ক সম্পাদক ১৩. কমনরুম সম্পাদক ১৪.সহ- কমনরুম সম্পাদক ১৫. মহিলা কমনমরুম বিষয়ক সম্পাদক ১৬. সহ- মহিলা কমনমরুম বিষয়ক সম্পাদক ১৭. ম্যাগাজিন সম্পাদক ১৮. সহ-ম্যাগাজিন সম্পাদক ১৯. সমাজসেবা সম্পাদক ২০. সহ-সমাজসেবা সম্পাদক

সভাপতি: উপাচার্য পদাধিকার বলে রাকসুর সভাপতি। তিনি রাকসুর সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি রাকসুর সার্বিক তত্ত্ববধান করবেন। তিনি চাইলে সর্ম্পূণ কার্যনির্বাহী কমিটি বা কমিটির যে কাউকে বহিষ্কার করতে পারবেন। সিন্ডিকেটের অনুমতির সাপেক্ষে তিনি সাময়িক সময়ের জন্য সংসদ বহিষ্কার করতে পারবেন। তার স্বাক্ষর ব্যতিত কার্য নির্বাহী কমিটির কোন সিদ্ধান্ত বৈধ হবে না।

কোষাধ্যক্ষ: উপাচার্য শিক্ষকদের মধ্যে থেকে কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দিবেন। তিনি রাকসুর সকল আর্থিক বিষয়াদি দেখভাল করবেন। সহ-সভাপতি: তিনি রাকসুর প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে তিনি সভায় সভাপতিত্ব করবেন । সাধারণ সম্পাদক: তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করবেন এবং সভার এজেন্ডা
নির্ধারণ করবেন। তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সভার সকল রেকর্ড সংরক্ষণ করবেন। তিনি রাকসুর সম্পদ দেখভাল করবেন। তিনি কোষাধ্যক্ষের তত্ত্ববধানে রাকসুর ফান্ড দেখভাল করবেন।

রাকসু নির্বাচনের নিয়মাবলি : ১. রাকসুর সকল সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভোট দিতে এবং নির্বাচনে দাড়াতে পারবেন। ২. কোন ছাত্র নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইলে তার অবশ্যই একজন প্রস্তাবক এবং একজন সমর্থক থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থী আলাদা আলাদা মনোনয়ন পত্রের দ্বারা মনোনীত হবেন। ৩. সঠিকভাবে পূরণকৃত ফরম মনোনয়নপত্র নির্বাচনের তারিখের আগে রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত সময়ের মধ্যে তার নিকট অবশ্যই জমা দিবে। ৪. রিটার্নিং অফিসার (উপাচার্য কিংবা উপাচার্য নিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন। ৫. রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র সমূহ বিশ্লেষন করে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। ৬. প্রত্যেক ভোটার ব্যালট পেপারে প্রত্যেক পদের জন্য একটি করে ভোট দিতে পারবেন। ৭. রিটার্নিং অফিসার উপাচার্যের নির্দেশের ভিত্তিতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করবেন।