রাতে সন্তানকে পুলিশে দিলেন বাবা, সকালে থানায় পেলেন লাশ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১:৪১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়ে: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় পুলিশি হেফাজতে হাসানুর রহমান মিলন (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে থানার একটি টয়লেট থেকে গলায় কম্বল পেঁচানো অবস্থায় মিলনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নির্যাতন ও মারপিটের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। মিলন দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের থানাপাড়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় পরিবারের লোকজনসহ স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে। পরে দেবীগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা।

তবে পুলিশের দাবি, মাদক মামলার আসামি মিলনকে মঙ্গলবার গভীর রাতে গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। সকালে টয়লেটের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে গলায় কম্বল পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সোমবার দুপুরে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, পারিবারিক বিবাদের কারণে অভিভাবকরা মিলনকে রোববার গভীর রাতে দেবীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই কালাম তাকে থানা হেফাজতে নেয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে মিলনের দুই বোন খাবার নিয়ে থানায় গেলে তাকে দেখতে দেয়নি পুলিশ। পরে টয়লেটের মধ্যে গলায় কম্বল পেঁচিয়ে মিলনের আত্মহত্যার কথা জানায় পুলিশ।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয়রা। তারা দেবীগঞ্জ থানা ঘেরাও করে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের বিচার দাবি করেন তারা।

মিলনের বাবা হবিবর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে রোববার গভীর রাতে থানায় ফোন করে পুলিশের হাতে মিলনকে তুলে দিই। আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। স্থানীয়ভাবে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। সেই ক্ষোভে তাকে মারপিটের পর হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে ফাঁসির কথা বলছে পুলিশ।

দেবীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর আকসাদুল ইসলাম বলেন, রাতে পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নেয়। সকালে কিভাবে এবং কেন আত্মহত্যা করলো মিলন। আমরা শতভাগ নিশ্চিত পুলিশ তাকে হত্যা করেছে। এখানকার পুলিশ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না।

দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাতে মিলনকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। আগেও তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা রয়েছে। সকালে টয়লেটে গিয়ে কম্বল গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে মিলন। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।