রাবির মতিহার হলে প্রক্টরের অনাধিকার চর্চা

কিন্তু শিক্ষার্থী বলল 'প্রক্টর স্যার আমাকে হলে তুলেননি

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:২২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিধি:আমার বাবা একজন কৃষক। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালায়। আমরা তিন ভাই বোন পড়াশুনা করি। তাই মেসে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মতিহার হলের (১২০ নম্বর কক্ষের) বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমি হলে উঠেছিলাম। প্রক্টর স্যার বা অন্য কেউ আমাকে হলে তুলে দেননি।’

মঙ্গলবার সকালে কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের ১২০ নম্বর কক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থী জনি মিয়া।

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর থানায়। আমরা কতটা গরিব আপনারা চাইলে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কয়েকজন বড় ভাইকে আমরা আর্থিক সমস্যার কথা বলি। তারা মতিহার হলের ১২০ নম্বর কক্ষ ফাঁকা থাকায় সেখানে আপাতত থাকতে বলেন। কিন্তু গত ১ ফেব্রুয়ারি আমি যখন হলে উঠি তখন সেই কক্ষে আবাসিকতা পাওয়া ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ভাইও বেড নিয়ে হলে উঠতে আসে। এসময় আমি রাকিবুল হাসান ভাইকে আমার সমস্যার কথা জানালে তিনি আমাকে হলে থাকতে বলেন এবং তিনি আবার হলে চলে যান।’ এসব কথা বলতে বলতে কেঁদেই ফেলেন জনি মিয়া।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরের বিরুদ্ধে ‘অনধিকার চর্চা ও অপব্যবহার’ করে জনি মিয়া হলে তুলেছেন এমন অভিযোগ এনে গত সোমবার পদত্যাগ করেছেন মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী আসগর শান্ত। এদিন তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রক্টর মহোদয়ের অনধিকার চর্চা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে মতিহার হলের ১২০ নং কক্ষে আবাসিকতা প্রাপ্ত ছাত্রকে হল থেকে বিতাড়িত করে তার পরিবর্তে মো. জনি মিয়াকে অবস্থানের ব্যবস্থা করা আমার পক্ষে নৈতিকভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে আমি আজ (সোমবার) অপরাহ্নে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’

হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং প্রক্টরের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুরু হয় নানা সমালোচনা। তবে সেই ১২০ কক্ষে আবাসিকতা পাওয়া শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসানও বলেন, তাকে কেউ হল থেকে জোর করে নামিয়ে দেয়নি।

মঙ্গলবার সকালে মুঠোফোনে রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমাকে কেউ হল থেকে জোর করে নামিয়ে দেয়নি। ওই ছেলে (জনি মিয়া) তার সমস্যার কথা আমাকে বললে, আমি নিজেই হল ছেড়ে চলে গেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী আরো বলেন, ‘আমি যে মেসে থাকি, সেখানে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমার অগ্রিম ভাড়া দেয়া আছে। যেহেতু আমার মেসে অগ্রিম ভাড়া দেয়া আছে এবং ওই ছেলেরও আর্থিক সমস্যা তাই আমি ওকে (জনি মিয়া) আমার বেডে থাকতে বলে আবার মেসে উঠেছি। আর জনি মিয়ার হলে উঠা নিয়ে যে এতো ঘটনা ঘটবে তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আপনারা এসব বিষয় নিয়ে আরো আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে হয়তো এতো কিছু ঘটতো না।’