রাবির সাবেক প্রো-ভিসির বিরুদ্ধে জমি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ‘সত্য নয়’

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২১ | আপডেট: ৭:৪৮:অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০২১

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবাহানের অন্যায় এবং দুর্নীতি ঢাকতে নানা রকম পাঁয়তারা চলছে। এজন্য একটি কুচক্রী মহল সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান এর বিরুদ্ধে একটি ‘অসত্য’ তথ্য পরিবেশনের চেষ্টা করছে। তারা নানা কায়দায় ৪ বছর আগের ঢাকাস্থ অতিথি ভবন নির্মাণের জন্য ক্রয়কৃত জমিতে দুর্নীতি হয়েছে এমন- একটি ‘অসত্য’ ঘটনা সামনে আনার চেষ্টা করছে।

কেননা, সেই দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গঠিত কমিটি জানিয়েছে, ঢাকাস্থ রাবির অতিথি ভবন নির্মাণের জন্য ক্রয়কৃত সেই জমিতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দীন প্রশাসনের মেয়াদ শেষের দিকে ঢাকায় অতিথি ভবন ক্রয় প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সে বছরই আদালতের আদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে। এই তদন্তে আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।

পরে একই বছর এম আব্দুস সোবহান উপাচার্য হবার পরপরই সিন্ডিকেট সভায় একটি তত্ত্ব অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম কবীরকে প্রধান এবং অধ্যাপক আবু বকর মো. ইসমাইল ও বর্তমান উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে সদস্য করে করা এই কমিটিও আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পায়নি।

অধ্যাপক গোলাম কবির জানান, অতিথি ভবনের জমিটিতে অংশীদারিত্ব নিয়ে সমস্যা ছিল। প্রচলিত বিধি মেনে ক্রয় করা হয় নি। ফলত জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে আর্থিক অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

নথি পত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৫ সালে তৎকালীন উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, হিসাব পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী ও ইউজিসি’র হিসাব পরিচালককে সদস্য করে অতিথি ভবন ক্রয়ের কমিটি করা হয়। কমিটি পত্রিকায় উন্মুক্ত দরপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে সেই প্রতিষ্ঠান দরপত্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত পূরণ করতে না পারায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী কয়েক ধাপে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান দাবি করে বলেন, বাড়িসহ জমিটি কেনায় উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিয়ম মোতাবেক কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে জমির মালিককে চেক দিয়ে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। যে টাকায় জমি কেনা হয়েছে তা ওই এলাকার জমির তুলনায় কম দামে পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাশ্রয় করতে পেয়েছি। দুদকের তদন্তেও সেটি উঠে এসেছে। আমরা দুদককে অর্থ সংক্রান্ত সব কিছুর কাগজসহ বিস্তারিত জানিয়েছি।