‘রাবি ছাত্রলীগে কোনো গ্রুপিং নেই’

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৬:২২:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেছেন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের মধ্যে কোন গ্রুপিং, কোন্দল, মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটি নেই, এটাই জননেত্রী শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, এটাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নিজের হাতে গড়া ছাত্রলীগ।
সংগঠনটির সবশেষ ২৫তম সম্মেলনের মাধ্যমে ২০১৬ সালে দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া-রুনু এর হাত ধরে গত শনিবার (১১ডিসেম্বর) চার বছরে পদার্পণ করেছে রাবি ছাত্রলীগের এই কমিটি।

এ প্রসঙ্গে শনিবার বর্তমান কমিটির অবস্থা, মেয়াদ ও নতুন কমিটির সম্পর্কে ‘দি বাংলাদেশ টুডের’ সাথে কথা বলেছেন সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
কথা বলার এক পর্যায়ে তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তারই আদর্শকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আমরা রাজশাহী বিশ^বিদ্যলয়ের ছাত্রলীগের দায়িত্বে আশার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে কোন গ্রæপিং ছাড়া স্বচ্ছ মেধাভিত্তিক রাজনীতি করে যাচ্ছি। যা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ইতিহাসেও অনন্য এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কাছে আমাদের ভালো একটা ইমেজ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছি।

এছাড়া তারা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা বিনির্মাণে স্বপ্ন দেখেছিলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিতে চাই, বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় শাখা সবসময় অগ্রনী ভূমিকা রাখবে।’

গ্রুপিংয়ের বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি যখন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি তখন শুনতাম এখানে পড়াশুনার মত কোন অবস্থা নেই। ছাত্রলীগ, শিবির, ছাত্রদল শুধু কাটাকাটি মারামারিতে লিপ্ত থাকে। কিন্তু আমি যখন ভর্তি হয় তারপর থেকে আমি ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, শিবির কিংবা ছাত্রলীগের ভিতর কোন গ্রæপিংয়ের সূত্র ধরে মারামারি কাটাকাটি এমন কোন দুর্ঘটনা দেখিনি। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন গ্রুপিংমুক্ত ও রক্তপাতহীন ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিৎ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান রাবি ছাত্রলীগের ভিতর কোন গ্রæপিং আছে বা নেই এই সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এই কমিটির ভিতর যদি গ্রুপিং থেকেও থাকে তারা কিন্তু সেটা বাইরে প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে ফেলে না। এবং বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকেও কোন বিপাকে ফেলে না। এটার জন্য তাদেরকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির চর্চায় আমি মনে করি মেয়াদোউত্তীর্ণ রাবি ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে নতুনদের রাজনীতিতে সুযোগ দেয়া উচিৎ।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে গোলাম কিবরিয়াকে সভাপতি ও ফয়সাল আহমেদ রুনুকে সাধারন সম্পাদক করে রাবি ছাত্রলীগের ১৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আংশিক কমিটির প্রায় ছয় মাস পর ২০১৭ সালের ১৮ জুন ২৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।