রাবি ভিসি-প্রোভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ

প্রকাশিত: 5:45 PM, November 21, 2019 | আপডেট: 5:55:PM, November 21, 2019

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বেশ কয়েখটি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে সরকার দলীয় শিক্ষকদের একাংশ। আজ বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ৈর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পাহাড়সম এসব অভিযোগ তোলেন তারা।

এর মধ্যে প্রশাসনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থের অপচয়, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ লুটপাট, আইন লঙ্ঘন করে ভিসি শিক্ষক থেকে অবসর ও পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ, জয় হিন্দ স্লোগান, নিয়মবহির্ভূতভাবে অযোগ্যদের অস্থায়ী নিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে এক লিখিত বক্তব্যে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাবি’ আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সুলতান-উল-ইসলাম টিপু বলেন, রাবি প্রশাসনের চলমান লাগামহীন দুর্নীতি দুদক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যা আমাদের জন্য চরম লজ্জার। ভিসি যখন প্রথম মেয়াদে এসেছিলেন তখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সীমা ছিল না। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েই তিনি আবারও দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় গড়ে তোলেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তার কন্যা ও জামাতার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন নিয়োগ, কর্মচারীদের আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩৫ বছর করে নিয়োগ প্রদান, নিয়োগ বোর্ড না করেই অর্ধশতাধিক নিকট আত্মীয়দের নিয়োগ, ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট ভঙ্গ করে আইন ও ভূমি প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সভাপতি নিয়োগ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালের ২১ জুন আইন লঙ্ঘন করে ভিসি শিক্ষক পদ থেকে অবসর ও পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি ভিসি পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। তাছাড়া প্রোভিসি অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়ার মেয়ে জামাতাকে নিয়োগ দেয়া হয় কিন্তু কোন পূর্ব নীতিমালা অনুযায়ী দরখাস্ত করার যোগ্যতা ছিল না। শুধু তাই নয়, নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে ফাঁস হওয়া অডিও নিয়েও চুপ থাকেন ভিসি।

এদিকে তিনি দুর্নীতির বিরোধী শিক্ষকদের এই আহ্বায়ক আরো বলেন, ভিসির অনুমোদনে প্রোভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে প্যারিস রোডসহ বিভিন্ন রাস্তায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ঘাস লাগানো, আবার সেই ঘাস উঠিয়ে সেখানেই ফুটপাথ তৈরি করে সরকারি অর্থের অপচয় ও লোপাট করা হচ্ছে। ৭ পুকুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঝ পথে বাতিল করে দেয়া হয়।

শুধু তাই নয় স্বজনপ্রীতি করে রাবি স্কুলের শিক্ষক, হলের আবাসিক শিক্ষক, ও অযোগ্য আত্মীয়কে খন্ডকালীন শিক্ষক, রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং ছাত্র উপদেষ্টার স্বামীর যোগ্যতা শিথিল করে অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে পড়ালেখার মান ধ্বংস করা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কার থাকা সত্ত্বেও কারণ ছাড়াই তায়কোয়ান্ড বন্ধ করে দেন তিনি। তাছাড়া এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারির বিরুদ্ধে মামলা, তদন্ত কমিটি, এনওসি না দেয়া, পদোন্নতির ও বিভিন্ন ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ করা হয়।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিকুন্নবী সামাদী, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এক্রাম উল্লাহ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. জিন্নাত আরা, অধ্যাপক আলী রেজা অপু, সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক অসিত রায়, অধ্যাপক পদ্মীনি দে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস, ক্রীড়া উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ। – সূত্র: দৈনিক নয়া দিগন্ত