রাবি শিক্ষার্থী রাজীবের কাব্যগ্রন্থে মানুষ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার কথা

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ | আপডেট: ৫:০৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

যেন অনুভূতির চাপে শ্রাবণ ঢলের মতো ঝরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ‘জীবন্ত ফসিল’র কবিতাগুলো। কোনোটায় ফুটে উঠেছে চেনা বাস্তবতার সঙ্গে কবির লালিত স্বপ্ন-বাসনাগুলোর সংঘাত; কোনোটায় তার জটিল মানব-জীবনের সরল স্বীকারোক্তি; কোনোটায় রাষ্ট্র ও সভ্যতার হিপোক্রেসি; কোনোটায় আবার প্রকাশ পেয়েছে মধ্যবিত্ত প্রেমের চাওয়া-না পাওয়াগুলো।

এভাবেই মানুষ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার গাথায় মলাট বদ্ধ হয়েছে কবি খুর্শিদ রাজীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জীবন্ত ফসিল’। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থীর বইটি পাওয়া যাচ্ছে এবারের একুশের গ্রন্থমেলায়। বইটি প্রকাশিত হয়েছে পূর্বা প্রকাশনী থেকে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন চারু পিন্টু। বইটি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকায় চলমান অমর একুশে গ্রন্থমেলার ৩৯০ নং দোকানে।

নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ সম্পর্কে কবি খুর্শিদ রাজীব বলেন, এই অস্থির সময়ে কবির মত পাঠকেরও চেনা জীবনের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে বিষাদ, না পাওয়ার হাহাকার আর স্বপ্নে দেখা একটা সরল পৃথিবীর আকাক্সক্ষা। আশা করি এই বইয়ের দু’ মলাটে মধ্যবিত্ত পাঠক তার জীবনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব-নিকাশগুলো মেলাতে পারবেন অনায়াসে। কবির চেতনায় পাঠকের প্রতিচ্ছবি কতকটা প্রশান্তির হতে পারে বলে বোধ হয়। কারণ, জীবন্ত ফসিল’র প্রতিটা পৃষ্ঠায় আমি আপনার-আমার-আমাদের রোজকার জীবনের কথাগুলোই বলতে চেয়েছি অ-ঋদ্ধ কণ্ঠে।

কবি খুর্শিদ রাজীবের লেখনি নিয়ে জানালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. পুরনজিত মহালদার। তিনি বলেন, কবিতো জীবনসত্য অনুভব করে সেই সত্যের প্রতিমা নির্মাণ করেন দীর্ঘ দিনের শ্রম-সাধনায়। অতীত ঐতিহ্য এবং চলমান জীবনভাবনা আত্মস্থ করে কবিতায় তার বাণীরূপ প্রদান করাই প্রকৃত কবির সাধনা। ‘জীবন্ত ফসিল’ কাব্য নির্মাণে শিল্প-উপাদানের ব্যবহার নৈপুণ্যে খুরশিদ রাজীব উপর্যুক্ত সাধনায় সিদ্ধিলাভের পথে এগিয়ে গেছেন অনেকখানি- এটাই মনে হয়। কবিতার বন্ধুর পথকে জয় করে খুরশিদ রাজীবের কবিতা জীবনরসে সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা করি।

পূর্বা প্রকাশনীর কর্ণধার ও সম্পাদক বাদল সাহা শোভন বলেন, খুর্শিদ রাজীব একজন তরুণ লেখক। কিন্তু তার লেখা খুব পরিশীলিত। তার যে কাব্যগ্রন্থটি বের হয়েছে তার বিষয়বৈচিত্র, ভাষা, শব্দচয়ন অসাধারণ। বইটি গত বৃহস্পতিবার এবারের একুশের গ্রন্থমেলার আমাদের পূর্বা প্রকাশনীর ৩৯০নং স্টলে এসেছে। এরই মধ্য বইটি পাঠকদের ভিতর বেশ সাড়া জাগিয়েছে।

মাধ্যমিকে থাকতেই লেখালেখি শুরু করেন কবি খুর্শিদ রাজীব। ছোটকাগজ সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত আছেন তিনি। এছাড়াও দৈনিক জনকণ্ঠের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করছেন। রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সাময়িকী, ছোটকাগজ ও জাতীয় পত্রিকায় তার লেখা বেশ কিছু কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে।