রামগড়ে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.জাঙ্গাগীর আলমের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষাণার্থীদের টাকা লোপাটের অভিযোগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:৫৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২১

মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন রানা, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি রামগড় উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো.জাঙ্গাগীরের আলমের বিরুদ্ধে ৩৫০জন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে আবেদন ফরমের টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, আইজিএ প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আওতায় দুস্থ ও বেকার মহিলাদের জন্য ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স সেলাই, ব্লক বাটি, বিউটি পার্লারে ৮০ জন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ৩৫০জন মহিলার কাছ থেকে ১শ টাকা করে আবেদন ফরম ফি সরকারি কোনো নির্দেশনা না থাকলেও অবৈধভাবে আদায় করেন, বলে অভিযোগ উঠেছে রামগড় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

১০ জানুয়ারী সোমবার থেকে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণের জন্য ৩৫০জন মহিলা থেকে যাচাই-বাছাই করে মাত্র ৩০জন মহিলাকে সেলাই প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়। এছাড়াও আইজিএ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বাকি দুটি প্রশিক্ষণ স্থগিত হয়ে যায়।

আবেদন ফরম নেওয়া প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ জেনেও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.জাঙ্গাগীর আলম আমাদের কাছে ১০০ টাকা করে আবেদন ফরম বিতরণ করেন।

বর্তমানে রাজস্ব খাতের আওতায় সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স চালু থাকলেও আবেদন ফরম বিক্রি করে ১০৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর কাছে যার মধ্যে থেকে যাচাই-বাছাই করে মাত্র ৩০জনকে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে বাছাই করা হয়।

বাকি ৭৮জন প্রশিক্ষণার্থী বাদ পড়ে যায়। পরে তিনটি প্রশিক্ষণ থেকে বাদ হওয়া মহিলারা তাঁদের আবেদন ফরমের জন্য দেওয়া টাকা গুলো কর্মকর্তার কাছে ফেরত চাইলে তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন রকম গালাগালি করে ও পুলিশ ডেকে থানায় পাঠানোর ভয়ভীতি দেখান। পরে আমরা নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের কাছে যাওয়ার কথা বললে তিনি আমাদেরকে বলেন, যাও আমার কিছুই হবে না আমার এই অফিসে গত ৯তারিখে ১০ বছর পূর্ণ হল। সবাই আমাকে ভালো করে চেনে আমি ভালো নাকি খারাপ।

এদিকে, প্রশিক্ষণার্থী তাসলিমা আক্তার বলেন,আমি এবার সহ ৪ বার ১শত টাকা করে আবেদন ফরম পূরণ করেও প্রশিক্ষণে আমাকে কি কারণে নেওয়া হয় না তা আমি জানি না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে, রামগড় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.জাঙ্গাগীর আলম বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে শুধু মাত্র আবেদন ফরমের খরচের জন্য ১শত টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

খরচের জন্য টাকা নেওয়ার সরকারি কোনো নির্দেশনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি ভাবে চিঠি বা কোনো নির্দেশনা নাই। খরচের টাকা গুলো দিয়ে যাচাই-বাছাই করতে আসা মেহমানদের নাস্তা পানির জন্য খরচ করা হয়।

এই খরচের টাকা গুলোর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যদি বলে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পরা মহিলারা গরীব তাঁদের টাকাগুলো ফিরত দিয়ে দাও তাঁহলে আমি টাকাগুলো তাঁদের ফিরত দিয়ে দিব।

তবে আবেদন ফরম ৩৫০ জন নিলেও তাঁর মাঝে ২২৮জন প্রশিক্ষণার্থীর কাছ থেকে ১শত টাকা করে ২২৮০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন অফিস সহকারী মো.আল আমিন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু.মাহমুদ উল্ল্যাহ মারুফের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে কোনো টাকা নেওয়া হয় কিনা তা আমার জানা নেই।

তবে আমি খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এবিষয়ে জেনে নেব। সরকারি ভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সত্যতা যদি না পাওয়া যায় তাহলে উপজেলা প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

খাগড়াছড়ি জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো.মহিউদ্দিন আহমেদ মুঠোফোন জানান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় মহিলাদের জন্য কোনো প্রশিক্ষণের আবেদন ফরমের ফি নেওয়া হয় না। আর সরকারি ভাবে এর কোনো লিখিত নির্দেশনাও নেই। টাকা নেওয়ার বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।