রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ছে

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০ | আপডেট: ২:২৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

রাশিয়া যতই দাবি করুক বিশ্বে তারাই প্রথম করোনার ভ্যাককসিন স্পুটনিক ভি বানিয়েছে, কিন্তু তা নিয়ে কিছুতেই সন্দেহ দূর হচ্ছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। এবার এই ভ্যাকসিনের যোগ্যতা নিয়ে রাশিয়ার কাছে প্রমাণ চাইল ‘হু’। অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপর রাশিয়ার ভ্যাকসিন কাজ করবে না, চাঞ্চল্যকর দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

খোদ রাশিয়ার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি শুধু ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের দেহে পরীক্ষা চালানো হয়েছে। শিশু ও ষাটোর্ধ্বদের দেহে পরীক্ষা চালানো হয়নি।

করোনাভাইরাসের নিরাপদ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে গত ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন হিসেবে ‘স্পুটনিক ভি’ অনুমোদনের ঘোষণা দেয় রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, এই ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে তার মেয়ের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার ঘোষণার পরই ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করে বিভিন্ন দেশ।

তবে মস্কোর দাবি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই দিন রুশ মন্ত্রী কিরিল দিমিত্রিয়েভের মন্তব্যে জানা গেছে, ওই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপ শুরু হয়নি। অর্থাৎ নিয়ম মেনে ট্রায়াল সম্পূর্ণ না করেই তারা ভ্যাকসিন প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়ে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সায়েন্টিফিক সেন্টার ফর এক্সপার্ট ইভালুয়েশন অব মেডিক্যাল প্রোডাক্টস-এর প্রধান ভ্লাদিমির বন্দারেভ বলেন, রাশিয়ায় বয়স অনুযায়ী তিনটি ভাগে পরীক্ষা করা হয়। সদ্যোজাত থেকে ১৮ বছর, ১৮ থেকে ৬০ এবং ৬০-এরও বেশি বয়সি। এখনও পর্যন্ত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের মধ্যে শুধু পরীক্ষা হয়েছে। অতএব এদের উপরেই ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা সম্ভব বা উচিত।

যদিও গামালিয়া ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এই বিষয়ে কিছুই জানালেও বলেছেন, তিনি নিজেই ভ্যাকসিন নিয়েছেন এবং ভালো আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও রাশিয়ার দাবি একপ্রকার খারিজ করে দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, রাশিয়ার ভ্যাকসিন স্পুটনিক-ভি এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে অংশই নেয়নি। তাদের কাছে চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে অংশ নেওয়া যে ৯ টি ভ্যাকসিনের তালিকা আছে, তাতে নাম নেই রাশিয়ার ভ্যাকসিনটির।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের উপদেষ্টা ড. ব্রুস এলিওয়ার্ড বলছেন,এই মুহূর্তে রুশ ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার মতো তথ্য আমাদের হাতে নেই। রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে এই প্রতিষেধক সম্পর্কে আরও বেশি বেশি তথ্য পাওয়া যায়। কী কী পর্যায়ের ট্রায়াল হয়েছে তা জানার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।

এছাড়া পুতিনের দুই মেয়ের মধ্যে কে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ভ্যাকসিন নিয়েছেন তা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানানোর ফলে রহস্য বাড়ছে।

সূত্র: বিজনেস টুডে