রাশিয়া-ইরানের মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে সম্পূর্ণ বাতিল ডলার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৬:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯
সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে মার্কিন ডলারকে সম্পূর্ণ বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো। তেহরানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত লেভান জাগারিয়ান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইরান নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্যে দু’দেশের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা কার্যকর করা হয়েছে। তবে দু’দেশের মুদ্রা ব্যবহার করা সম্ভব না হলেও ডলার ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে না তেহরান ও মস্কো। দু’দেশ বরং প্রয়োজনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ইউরো ব্যবহার করছে।

জাগারিয়ান বলেন, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল এবং রাশিয়ার জাতীয় মুদ্রা রুবল ব্যবহার করা হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন ডলারের পরিবর্তে নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারকে রাশিয়া সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত দুই বছরে ইরানের পরমাণু সমঝোতা ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন।

এর কারণে বিশ্বের অনেক দেশ মার্কিন সরকার ও মার্কিন মুদ্রার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করেছে। এসব দেশ দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের পরিবর্তে অন্য কোনো মুদ্রা ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

‘ইরাকের মাটিতে বসে আমেরিকার ইরানে নজরদারির অনুমতি নেই’

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ বলেছেন, ইরানের ওপর নজর রাখতে আমাদের মাটি ব্যবহারের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

সোমবার তিনি যখন এমন কথা বললেন, তার একদিন আগে সিবিএস নিউজ চ্যানেলে ফেস দ্য নেশন প্রোগ্রামে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন- ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখা জরুরি। কারণ ইরানই মূল সমস্যা।

বাগদাদে একটি ফোরামের বৈঠকে বারহাম সালিহ বলেন, ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিবৃতিতে আমরা যারপরনাই বিস্মিত। আমাদের দেশে সেনা রেখে ইরানের ওপর নজর রাখতে ট্রাম্প কোনো অনুমতি নেননি।

ফেস দ্য নেশনে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের ওপর ওয়াশিংটন যাতে নজর রাখতে পারে, সে জন্য ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জবাবে সালিহ বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে মার্কিন বাহিনীর একমাত্র মিশন হচ্ছে- সন্ত্রাসাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা; প্রতিবেশী ইরানকে পর্যবেক্ষণ করা না। ইরাকে মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা ও তাদের মিশনের ধরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছি আমরা।

তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনীর অনেক বিষয় পর্যবেক্ষণ করার অধিকার নেই। বিশেষ করে ইরানের ওপর নজরদারি। আমরা কখনই এমনটি অনুমোদন করব না। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে- ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।

তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার ইরানের সঙ্গে করা বহুপক্ষীয় পরমাণু চুক্তি থেকে ট্রাস্প সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন আগেই। পরে তেহরানের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছেন।

সোমবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরাকের আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে প্রচুর অর্থ খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ডিসেম্বরে তিনি ওই ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অংশে নজর রাখতে এটি খুবই উপযুক্ত অবস্থানে আছে।

তিনি ইরানে হামলা চালাতে সক্ষমতা অর্জন বোঝাচ্ছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাহ! আমি চাই ইরানের ওপর নজর রাখতে। আমি যা কিছু চাচ্ছি, তা হচ্ছে- ইরানের ওপর নজর রাখা।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতির মধ্যে কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে ইরাক। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকে নিজের প্রভাব আর সম্প্রসারিত করেছে ইরান।
Add Image