রিকশাওয়ালাকে পুলিশের স্যালুট, ভিডিও ভাইরাল

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১ | আপডেট: ১২:৪৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২১

একজন পুলিশ সদস্য ষাটোর্ধ এক রিকশাওয়ালাকে স্যালুট দিয়ে কিছুক্ষণ কথা বললেন। তারপর পকেট থেকে টাকা বের করে হাতে গুঁজে দেন। নরসিংদী সদরের ভেলানগর স্টেডিয়ামের সামনে এ ঘটনা সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পরে। কি ঘটেছিল সেদিন? বিস্তারিত জানতে কাজ করে দেশের একটি গণমাধ্যম। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা যায়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছিলেন নরসিংদী পুলিশ লাইনে কর্তব্যরত কনস্টেবল সোহাগ হোসেন (২৮)। তরুণ এই পুলিশের পেছন থেকে ডাক দেন ষাটোর্ধ এক রিকশাওয়ালা।

রিকশাওয়ালার ভাষ্যমতে, কেউ একজন ভাড়া নিয়ে গিয়ে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে পারিশ্রমিক না দিয়েই চলে গেছেন। তিনি ফিরে এসেছেন খালি হাতে। এদিকে খাবার খাওয়ার টাকা নেই তার কাছে।

রিকশাওয়ালা বয়স্ক লোকটি ট্রাফিক সোহাগের কাছে ২০ টাকা চান। এক পর্যায়ে বেশ কিছু আলাপের পর সোহাগ টাকা দেন এবং একটি খাবারে দোকান দেখিয়ে দেন।

এই ভিডিও রেকর্ড হয় পাশেই থাকা একটি হার্ডওয়ারের দোকানে সিসিটিভিতে। সেখান থেকে ভিডিও সংগ্রহ করে স্বপন শেখ নামে এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থী। পরে সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করলে এটি বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেইজে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিও আপ করা শিক্ষার্থী স্বপন শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শী। সেদিন বিকেলে আসরের নামাজে যাওয়ার সময় পুলিশ সোহাগ ভাইকে এক রিকশাওয়ালাকে টাকা দিতে দেখি।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

বিষয়টা দেখে অবাক হই। নামাজ শেষে পুরো ঘটনা জানার পর আমার ফোনে কানেক্ট করা বড় ভাইয়ের হার্ডওয়ারের দোকানের সিসিটিভি সফটওয়্যার থেকে ব্যাকআপ চেক করে ভিডিওটা ডাউনলোড করে ফেসবুকে আপ করি।

পরে আরও অনেকে একই ভিডিও ডাউনলোড করে বিভিন্ন গ্রুপে আপ করে। পুলিশের এই ভালো কাজ সকলের কাছে ছড়িয়ে দিতেই আমি ভিডিও আপ করেছিলাম।

পুলিশ সদস্য সোহাগ হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় জন্ম নেয়া এই ব্যক্তি পুলিশে যোগ দেন ২০১১ সালের আগস্টে। তিনি নরসিংদী পুলিশ লাইন্স এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন গত এক বছর ধরে। কোনো সময় ট্রাফিকের সংকট হলে এক্সট্রা ফোর্স হিসেবে তিনি ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে নাশতা খাবার টাকা চায় রিকশাওয়ালা চাচা। লোকটাকে দেখে আমার মায়া লাগে। তারপর কথা বলার সুযোগ দেই। এরপর আমি তাকে টাকা দিয়ে হেল্প করি। তার আগে আমি ওনাকে হাত উঠিয়ে সালাম দেই। এই বয়সেও তিনি নিজের কাজ নিজে করছেন দেখে নিজ থেকে সম্মান দিতে ইচ্ছে হলো।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালের আগস্টে পুলিশে যোগদানের পরই নিজেকে একজন সেবক হিসেবে মনে করছি। সেবা করতে চাই, আমাদের প্রতি মানুষের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। এগুলো দূর করতে চাই। পুলিশ শুধু আসামির পেছনে দৌড়ায় না, মানবিক কাজও করে।’

এমন ঘটনায় নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর (প্রশাসন) সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পুলিশ জনগণের সেবক। আমরা জনগণের জন্যই কাজ করি। আমাদের প্রতি অনেকের অনেক ভুল ধারণা কাজ করে, বিষয়গুলো পীড়াদায়ক।

বিশেষ করে ট্রাফিকে যারা কাজ করে তার অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এরকম মানবিক সদস্য আমাদের পুলিশের গর্ব। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এক দল মানবিক পুলিশ সদস্য গঠন করা। আমরা উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে জনগণের পাশে থাকছি এবং এটা অব্যাহত থাকবে।