রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিলেন মিতু

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১৬:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৯
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতু জিজ্ঞাসাবাদে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর’ তথ্য দিয়েছেন পুলিশকে।

পরকীয়ার দায়ে অভিযুক্ত ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ দুপুরে ১২টায় মিতুকে আদালতে সোপর্দ করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ‘তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মিতুর কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের জানান, ‘ডা. আকশের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পরিবারের করা মামলায় স্ত্রী মিতুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার বেশিরভাগই স্বীকার করেছেন। বিয়ের পরও বেশ কয়েকজন বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’

দু’দফা জিজ্ঞাসাবাদে মিতু ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার না করলেও শুক্রবার তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এর আগে দু’দফায় মিতু শুধুমাত্র বন্ধুত্ব থাকার কথা স্বীকার করেন।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিন ধরে আকাশের আত্মহত্যার পেছনে কারণ কি জানতে চাইলে মিতু বলেন- আকাশ সন্দেহবসত আমার ওপর নির্যাতন করত। আত্মহত্যার আগে ওই রাতে আকাশ শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। এ কারণে মিতু তার সঙ্গে আর থাকবে না বলে বাবার সঙ্গে চলে যায়।

পরে নারী নির্যাতন মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে আকাশ আত্মহত্যা করে বলে দাবি মিতুর।

মিতু দাবি করেন- ওই রাতে আকাশ মারধর ও ভয় দেখিয়ে মোবাইলে ভারতীয় নাগরিক প্যাটেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বক্তব্য রেকর্ড করে। এমনকি তার পাসপোর্ট ও গ্রিনকার্ড নিয়ে ফেলার দাবি করে।

পরপুরুষের সঙ্গে অশ্লীল ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে মিতু বলেন, এগুলো সব নকল ছবি। আসল নয়। ফটোশপে এডিটিং করে এসব ছবি তৈরি করা হয়েছে।

মিতু জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, ২০১৬ সালে ডা. আকাশের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে প্রতিটা মুহূর্তে তাঁকে সন্দেহের চোখে দেখত আকাশ। যেখানে সন্দেহ বা বিশ্বাস থাকে না, সেখানে শান্তি থাকে না। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় তৃতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদে এক চিকিৎসক বন্ধু ও ভারতীয় নাগরিক উত্তম প্যাটেলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

অবশ্যই এর আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মিতুর বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা লেখেন- ২০১৬ সালে আকাশের সঙ্গে মিতু আপুর বিয়ে হলেও তার সঙ্গে নয় বছরের সম্পর্ক। এতদিনের সম্পর্ক ফেসবুকে কয়েকলাইন স্ট্যাটাস লিখে কি শেষ করা যায়। আর ছবি দেখে উপরে যা দেখা যায় তা কি সবসময় সত্যি হয়। এ যুগে ফটোশপে এডিটিং করে এর চেয়ে খারাপ ছবি বানানো যায়।

এসআই আবদুল কাদের বলেন, এ মামলার অন্য আসামি মিতুর বন্ধু ডা. মাহবুব আলম ও পিতা আনিসুল হক চৌধুরী দেশে আছেন। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মিতুর মা, বোন ও অন্য এক বন্ধু দেশের বাইরে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুশ বাশার এ প্রসঙ্গে বলেন, তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে রিমান্ডে তিন দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আদালতের গাইডলাইনের আলোকেই নারী কনস্টেবল রেখে মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ৩১ জানুয়ারি স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে নিজ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। এ ঘটনায় স্ত্রী মিতুসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের জেরে গত ৩১ জানুয়ারি শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। মৃত্যুর আগে ডা. আকাশ তার ফেসবুক আইডিতে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর পরকীয়া এবং একাধিক যুবকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে স্ট্যাটাস ও অশ্লীল ছবি পোস্ট করে আত্মহত্যার কথা লিখে যান।

ঘটনার রাতেই আকাশ হত্যায় মিতুসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ওই রাতেই নগরীর নন্দনকানন এলাকায় খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। হাইকোর্টের আদেশ অনুসরণ করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালত মিতুকে কারাগারে পাঠালো।