রোজিনার জামিন না দেওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মসূচি বয়কট

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১ | আপডেট: ৪:৩৩:অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন না হওয়া পর্যন্ত ওই মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।

মঙ্গলবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিএসআরএফএ’র সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জরুরি বৈঠক শেষে সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাস জানিয়েছেন, রোজিনা ইসলামের জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের ব্রিফিং বর্জন করা হবে। সেই সঙ্গে রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও লাঞ্ছিত করায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বুধবার (১৯ মে) বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হবে।

তপন বিশ্বাস আরও জানিয়েছেন, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করবে বিএসআরএফ, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো হবে। রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে তথ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। পরে সাংবাদিকদের মূল সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নেওয়া হবে বলেও জানান বিএসআরএফ’র সভাপতি তপন বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ মে) পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটকে রেখে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে।

রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। পরে খবর পাওয়া যায় তাকে সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন।

রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি।

একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথি সরানোর অভিযোগ এনে পুলিশ ডাকা হয়েছে। পরে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়। পুলিশ জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে থানায় আনা হয়েছে।

প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফ গণমাধ্যমে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রোজিনা ইসলাম এই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু রিপোর্ট করছিলেন। যার মধ্যে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির রিপোর্ট ছিল। আমরা মনে করছি, এতে তিনি মন্ত্রণালয়ের আক্রোশের শিকার হয়ে থাকতে পারেন।’

এ ঘটনায় পুলিশ রোজিনা ইসলামের নামে তথ্য চুরির অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পাশাপাশি জামিন শুনানির জন্য ২০ মে দিন ধার্য করেন।