রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে প্রত্যাবাসন : কাজী রিয়াজুল হক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯ | আপডেট: ১:২২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯
ছবি : টিবিটি

সফিউল আলম, কক্সবাজার : জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মানবাধিকার নিশ্চিত হলে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম।

যতদিন তারা এখানে থাকবে, ততদিন তাদের সামগ্রিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এ সময়টুকুতে যেন কক্সবাজারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের করণীয় বিষয়ক আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধান অতিথি আরো বলেন, রোহিঙ্গারা যে আমার দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করবেনা, মাদক ছড়িয়ে দেবে না, সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে না তার নিশ্চিয়তা কেউ দিতে পারবেনা। তাই রোহিঙ্গাদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো উদ্যোগ নিতে হবে। একই সাথে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীন দ্বন্ধে যেন স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। তাই যতদিন পর্যন্ত প্রত্যাবসন কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত সকলকে ধৈয্যের সাথে সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, মিয়ানমারের সদিচ্ছা না থাকায় বাংলাদেশের সাথে দ্বি-পাক্ষীয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখেনি। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

প্রধান অতিথি বলেন, মাত্র ৬ হাজার একর এলাকায় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। প্রশাসনের আন্তরিকতার কারণে এখনো সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্প এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বা ধর্মীয় উগ্রবাদ যেন বেড়ে উঠতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেক পুরাতন। সে সময় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সংখ্যা ছিলো নগণ্য। একই সাথে মিয়ানমারের শাসক গোষ্টির সদিচ্ছা থাকায় প্রত্যাবাসনও করা হয়েছিলো। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মাসে এক সাথে সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিস্তার লাভ করেছে। যা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাই রোহিঙ্গাদের মানমর্যদা রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ফলে আমার দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে যেন, স্থানীয়দের মানবাধিকার ভূলণ্ঠিত না হয়, সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামল হোসেন বলেন, ক্যাম্পে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ১১ টি চেকপোস্ট থাকার পরও রোহিঙ্গারা প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সীমানা প্রাচীর জরুরী। অন্যথায় রোহিঙ্গারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়াতে পারে। ###