রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার থেকে!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯ | আপডেট: ১২:২৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯
সংগৃহীত

আগামী বৃহস্পতিবার ২২ (আগস্ট) থেকে শুরু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার‌্যক্রম। এবারও অনিশ্চয়তা কাটেনি বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, এর আগে ১৫ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদের মুখে প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। ওই সময় উখিয়ার ঘুমধুম ও টেকনাফের নাফ নদীর তীরে কেরণতলী প্রত্যাবাসন ঘাট নির্মাণ হয়েছিল।

এর মধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি, ৩৩টি আধা সেমিটিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। নতুনভাবে দ্বিতীয় দফায় ২২ আগস্ট থেকে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে এগুলো সংস্কার করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যারা দায়িত্বে থাকবেন তাদের জন্যই কিছু অস্থায়ী ঘর তৈরি করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে সম্মতি থাকলেও অনিশ্চয়তা পিছু ছাড়ছে না। কারণ, রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে না চাইলে প্রত্যাবাসন প্রস্তুতি এবারও ভেস্তে যাবে। এরপরও রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনা।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গার একটি তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত করেছে মিয়ানমার। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মিন্ট থো সম্প্রতি রয়টার্সকে জানায় তারা ২২ আগস্ট থেকে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মিন থিনও রয়টার্সকে বলেছেন, প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বাংলাদেশ সীমান্তে নির্মাণ করা ট্রানজিট ক্যাম্পগুলো পরিষ্কারের জন্য বাড়তি স্টাফ পাঠানো হচ্ছে। এ ক্যাম্পগুলো বেশ কয়েক মাস খালি পড়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক জানান, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যেকোনো সময় শুরু হবে।

২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সম্মত হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলছে না সরকার। তবে শিগগিরই প্রত্যাবাসন শুরু করার লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে অনেক কিছু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করব, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যায়। এটা শুধু বাংলাদেশের নয়, এটা রোহিঙ্গাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য।

যদি তারা ফিরে না যায়, তবে শুধু জমির অধিকার নয় তারা তাদের সব অধিকার হারাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের কাছে সবসময় একটি অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে।