লকডাউনে ভাসমানদের জন্য নোয়াখালীর চৌমুহনীতে মাসব্যাপী মানবিক ইফতার

মানিক ভূঁইয়া মানিক ভূঁইয়া

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১ | আপডেট: ৭:৩৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২১

নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং লকডাউনে বিপর্যস্থ ভাসমান ও কর্মহীন মানুষদের জন্য মাসব্যাপী মানবিক ইফতারের আয়োজন চলছে।

চৌমুহনীর রেলস্টেশনে প্রতিদিন ইফতারের সময় সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করে শতাধিক মানুষের হাতে ইফতার তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

স্বেচ্ছাব্রতিদের সংগঠন আমরা গোলাপ এই কর্মসূচীর আয়োজন করে। আর এতে স্বেচ্ছাসেবী সহযোগীতায় রয়েছে “সার্ভিস ফর হিউম্যান বিয়িং অর্গানাইজেশন (মানুষের জন্য সেবা)।

এ সেবাতেই যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন ব্যাক্তি ও সংগঠন তারই আলোকে চৌমুহনী ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরি সভাপতি মোরশেদুল আমিন ফয়সাল ভাসমান ও কর্মহীনদেও মাঝে একদিনের ইফতারের দায়িত্ব নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীদের প্রাণ এবং ইফতার আয়োজনের সমন্বয়ক প্রথম নিজ উদ্যোগে ইফতার সরবরাহ করলেও ক্রমেই এই মহতি উদ্যোগে সামিল হচ্ছেন বিভিন্ন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন বসার স্থানকে জীবানুমুক্ত করে খাবার গ্রহীতাদের মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই আয়োজন অব্যাহত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনার সংক্রমনের শুরুতে কর্মহীন হয়ে পড়া ভাসমান মানুষদের জন্য স্থানীয় সমাজকর্মী শাহেদ মুনীম ফয়সাল লঙ্গরখানা চালুর মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থার বিষয়টি নোয়াখালীর গন্ডি ছাড়িয়ে পুরোদশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তখনকার বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম ওমর ফারুক বাদশা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম ভাসমান লঙ্গরখানাটি চালিয়ে নিতে সর্বাত্মক সহযোগীতা করেন নেপথ্য থেকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছিলো তখন। এভাবে ১’শ ৭ দিন খাবার সরবরাহ করা হয়েছিলো লঙ্গরখানায়।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভাসমান মানুষদের মুখে সামান্য খাবার তুলে দিতে ইফতারের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রতিদিন ইফতারের মেন্যুতে বুট, পেয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, খেজুর ও মুড়ি রাখা হয়েছে। এতে জনপ্রতি খরছ হয় ৩২ টাকা। এক’শ জনের জন্য ৩ হাজার ২০০টাকা খরছ হয়।

যে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ অথবা ইফতার সরবরাহের মাধ্যমে অসহায় এই মানুষগুলোকে ইফতার করাতে পারে। তাহলে পুরো রমজানে কর্মসূচীটি অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে এমনটি জানিয়েছেন কর্মসূচীর সমন্বয়ক শাহেদ মুনীম ফয়সল।

বিকাশের মাধ্যমে অথবা নিজে ইফতার কিনে দিতে পারেন যে কেউই। তিনি এজন্য সবার সহযোগীতা কামনা করেন।