‘লকডাউনে’ শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি সেবার আওতায় আনার দাবি

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১ | আপডেট: ৮:১৫:অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

লকডাউন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি ও বিশেষ সেবার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থানরত জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, লাল-সবুজের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে প্রতিবছর হাজারো মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশে ইউরোপের অন্যতম শিক্ষা সহায়ক দেশ জার্মানিতে যাত্রা করে। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শেষে দেশ সেবার মহান ব্রত নিয়ে স্বদেশে ফিরে এসে এসব শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী আলোয় বিকশিত করে আমাদের দেশকে। দুর্ভাগ্যক্রমে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রভাবে বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসে ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত হওয়ায় ও ‘লকডাউনের’ প্রভাবে দূতাবাস অফিসে শিক্ষার্থীদের ভিসা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় সহস্রাধিক আলোকিত সম্ভাবনাময়ী শিক্ষার্থীদের জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টি বর্তমানে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তারা জানান, গত ১ বছরে প্রায় সহস্রাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জার্মানির বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়ে গত ৩ সেমিস্টার (সামার ২০২০, উইন্টার ২০২০/২১, সামার ২০২১) অনলাইনে ক্লাস করছে। ইতোমধ্যে প্রায় প্রত্যেকেই ব্লক অ্যাকাউন্টের ১১ লাখ টাকা জমা রেখেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে অনেকেই কয়েক লক্ষাধিক টাকা টিউশন ফিও জমা দিয়েছে। তাই প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ভিসা সাক্ষাৎকার ও ভিসা পাওয়ার প্রত্যাশায় থাকলেও ‘লকডাউনের’ আগে খুবই অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই দূতাবাস থেকে তাদের ভিসা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘লকডাউন’ আরোপের কারণে অধিকাংশেরই ভিসা কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেছে।

জার্মানিতে গত ৩ সেমিস্টার অনলাইনভিত্তিক পাঠ্যক্রম পরিচালিত হলেও আগামী সেমিস্টার থেকে জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থা সর্বাত্মক স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত বাংলাদেশস্থ জার্মান দূতাবাসের কার্যক্রম পরিচালিত না হলে যথাসময়ে ভিসা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফল স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে শিক্ষর্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়বে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও ক্যারিয়ার। আশাহত হবে সহস্র পরিবার, ভেঙে পড়বে শিক্ষার্থীদের মনোবল, দেশ হারাবে সম্ভাবনাময়ী গবেষকদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, জার্মানিতে শিক্ষা ব্যবস্থা থিওরি, প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টার্নশিপের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওরি ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হলেও প্র্যাকটিক্যাল ও ওয়ার্কশপ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করতে হয়। তাই শুধুমাত্র থিওরি ক্লাসে অংশগ্রহণ করে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ একেবারেই ক্ষীণ। তাই শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। লাইব্রেরিতে প্রবেশ করার সুযোগ না থাকায় রিসার্চভিত্তিক অধ্যয়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র ভিসা জটিলতার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময়ী এ মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করছে, ইন্টারনেট কানেকশনের সমস্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ক্লাস লেকচার যথাযথভাবে বুঝতে পারছে না। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রেজেন্টেশন ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডর্মেটরি ও স্বাস্থ্য বিমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বাংলাদেশ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে তারা প্রাপ্ত সুবিধাদি ভোগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ভিসা সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার পাওয়ার বিষয়ে ক্রমাগত অনিশ্চয়তা এবং বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহস্র শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ সরকার ও জার্মান দূতাবাসের প্রতি একটাই দাবি ‘লকডাউন’ চলাকালীন শিক্ষার্থী ভিসাকে জরুরি ও বিশেষ সেবা বিবেচনায় নিয়ে ভিসা কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা এবং গবেষণা কার্য চলমান রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নাজিম উদ্দিন, রায়ানুল ইসলাম, রাফি আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।