লকডাউন ঘোষণায় পুঁজিবাজারে ধস

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১ | আপডেট: ৩:১৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধের’ ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। বিধিনিষেধ কার্যকরের একদিন আগেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ায় দেশের পুঁজিবাজারে ধস নেমেছে।

রবিবার লেনদেন শুরুর সাড়ে ৩ ঘণ্টায় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ১৮২ পয়েন্ট হারিয়েছে।

আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পতনের মাত্রাও বাড়ছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও শিল্প কারখানা খোলা থাকছে। তারপরও বিধিনিষেধের প্রাথমিক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। ফলে ৩ শতাংশের বেশি কমেছে সূচক।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই পরিস্থিতি দেখা গেছে।

গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় বড় ধরনের পতন দেখা দিলে সরকারের পরামর্শে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

এরপর পুঁজিবাজারে লেনদেনে অচলাবস্থা দেখা দিলে গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী লকডাউনের সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাজারও বন্ধ রাখা হয়। তবে এবার পুঁজিবাজার খোলা থাকলেও বড় পতন এড়াতে পারছে না।

আজ বেলা দেড়টা পর্যন্ত সময়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৪৯টি বা ৯৮ শতাংশের দর কমেছে। এর মধ্যে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত দর হারানো কোম্পানির সংখ্যা ৬১টি। এ সময়ে মাত্র ১২টি কোম্পানির দর বেড়েছে।

ডিএসইতে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৩৭৪টি। এর মধ্যে ৩৪টি সিকিউরিটিজের কোনো লেনদেনই হয়নি। আর ৬৮টি সিকিউরিটিজ ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দরে আটকে থাকায় দর হারানোর কোনো সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে ১০২টি শেয়ার রয়েছে এখন ফ্লোর প্রাইসে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, আজ লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৩০ পয়েন্ট কমে যায়। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেষ্টায় সূচক কিছুটা পুনরুদ্ধার করা গেলেও বেলা সোয়া ১১টা থেকে আবারও বড় পতনের দিকে এগিয়ে যায় বাজার।

এরপর থেকে যত সময় যাচ্ছে সূচক পতনের হারও ততটা বাড়ছে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সূচকটি ১৮২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫০৮৮ পয়েন্টে নেমেছে।

এদিকে এই লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে পুঁজিবাজার বন্ধের গুজব ছড়িয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি পুঁজি করে এমন গুজব ছড়াচ্ছে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারী। বড় পতনে সক্ষম বিনিয়োগকারীদের কম দরে শেয়ার কেনার সুযোগ করে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে আপাতত সাত দিনের জন্য এ বিধিনিষেধ শুরু হবে।