লকডাউন নিয়ে উভয় সঙ্কটে মের্কেল

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১ | আপডেট: ৯:২৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২১

করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় লাগাতার লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন জার্মানির নেতারা। দৈনিক সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও বিধিনিয়ম শিথিল করার জন্য চাপ বাড়ছে।

সেই নভেম্বর মাস থেকে একটানা লকডাউনের কারণে জার্মানির মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে। একাধিক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী দোকানবাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ আবার খোলার পক্ষে সওয়াল করছেন মানুষ। অন্যদিকে দৈনিক সংক্রমণের হার যথেষ্ট কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। করোনা ভাইরাসের ছোঁয়াচে সংস্করণগুলি সংক্রমণের ‘তৃতীয় ঢেউ’-এর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ব্রিটেন থেকে আসা বি১১৭ সংস্করণ দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। টিকাকরণ কর্মসূচির ধীর গতির কারণে এই সঙ্কটের দ্রুত মোকাবিলা করারও উপায় নেই। এমন প্রেক্ষাপটে জার্মানির ফেডারেল ও রাজ্য সরকারগুলিকে লকডাউনের মেয়াদ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান মেয়াদ ৭ই মার্চ শেষ হচ্ছে।

বুধবারের বৈঠকের আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল ও ১৬টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। এর আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি এক লাখ মানুষের দৈনিক সংক্রমণের সাপ্তাহিক গড় হার ৩৫ হওয়া পর্যন্ত লকডাউনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও জনমতের ভিত্তিতে তাঁদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। লকডাউনের মেয়াদ সম্ভবত আরও কিছুদিন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারেন তাঁরা। বিনামূল্যে দ্রুত করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে সঙ্কট মোকাবিলার আশা করছে সরকার।

যথেষ্ট সংখ্যায় করোনার টিকা সরবরাহ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় অনেক নতুন প্রস্তাব শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রাজেনিকা কোম্পানির তৈরি টিকা সম্পর্কে জার্মানিতে সংশয়ের আলোকে সব মানুষের জন্য এই টিকা নেবার সুযোগ করে দেবার পরামর্শ দিচ্ছে কিছু মহল। সংশয় দূর করতে খোদ চ্যান্সেলর মের্কেল লাইভ টেলিভিশনে সেই টিকা গ্রহণ করুন, এমন প্রস্তাব উঠে আসছে। এখনো পর্যন্ত তিনি বয়সের কারণে সেই টিকা নেবার বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন, কারণ জার্মানিতে ৬৫ বছরের বেশি মানুষদের সেই টিকা না দেবার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ যত বেশি সম্ভব মানুষকে আপাতত টিকার প্রথম ডোজ দেবার পক্ষে সওয়াল করছেন। তারা একাধিক গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ফাইজার-বায়োননেক এবং মডার্নার টিকার প্রথম ডোজই যথেষ্ট সুরক্ষা দিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত জার্মানিতে সব ব্যক্তির জন্য দুটি করে ডোজ দেবার নীতি চালু রয়েছে।

করোনা সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে কড়াকড়িও বাড়ানো হচ্ছে। ফ্রান্সের মোজেল জেলায় মারাত্মক পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার থেকে জার্মানিতে অবাধ প্রবেশের সুযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। সেই অঞ্চলে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা করোনা সংস্করণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এর আগে চেক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রিয়া সীমান্তের কিছু অংশকেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকায় রাখা হয়েছিল। ফ্রান্স এমন একতরফা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই সীমান্তে সমন্বয়ের প্রশ্নে ঐকমত্যে এসেছে।